সিটি নির্বাচনে নমনীয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ


প্রকাশিত: ০৩:০৬ এএম, ২৩ মার্চ ২০১৫

আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নমনীয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে চলমান আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে চায় ক্ষতাসীন এই দল। একই সঙ্গে দেশকে অবরোধ ও হরতালের কবল থেকে মুক্ত করে জনজীবনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। গত দুই দিন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সরকারের এ মনোভাব জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, অনুষ্ঠিত রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের মতোই ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার পক্ষে সরকারের হাইকমান্ড।

তাদের বক্তব্য, জয় পেয়ে যদি বিএনপি তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তাতে রাজি সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মনোভাব জানিয়েছেন। তবে নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করেন, সাধারণ মানুষকে পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারার অপরাধে দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত। এজন্য তারা খালেদা জিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান।

গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থীরা হেরে গেলেও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, ফলাফল মেনে নেয়ার মানসিকতা আওয়ামী লীগের আছে।

এ দিন দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। বিএনপির জন্য এটা একটা সুযোগ। তারা মানুষ হত্যা বন্ধ এবং অবরোধ ও হরতাল প্রত্যাহার করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসতে পারে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে জনগণ তাদের আর কোনো সুযোগ দেবে না। কারণ দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই বিএনপি-জামায়াতের নৃশংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছে। কোথাও অবরোধ-হরতাল পালন হচ্ছে না।

ক্ষমতাসীন দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ সরকারের আমলে সব নির্বাচনই নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বিএনপিকে অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহবান জানান।

সর্বশেষ পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। গত সরকারের শেষ মেয়াদে ওই পাঁচ সিটিতে জয়ের পরও ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। বর্তমানে এই জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ আড়াই মাসে পেট্রলবোমা ও আগুনে পুড়ে মারা গেছে শতাধিক মানুষ।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর বাইরে গুম হয়েছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী।

বিএনপি অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়ার পর শুরু থেকেই বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী কূটনীতিক এবং দেশের সুশীল সমাজ দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিন বান কি মুন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আতংকমুক্ত পরিবেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটাই হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জন্য একটি বার্তা। তাই তারা এ নির্বাচনকে আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তারা আন্দোলনরত বিএনপিসহ দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর কাছে প্রমাণ করতে চান আওয়ামী লীগের অধীনেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

কাজেই এ দাবিতে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। বিএনপি অপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে তার ফল পাবে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও যাবে অনুরূপ বার্তা। সূত্র : যুগান্তর

বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।