ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা


প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৫

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি চারজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাবুর ভগ্নিপতি মনির হোসেন মাসুদ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বলে জানান তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন।

আসামিরা হলো, ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার হওয়া জিকরুল্লাহ ও আরিফুল এবং আবু তাহের ও মাসুম নামে আরও দুই জন।

ওসি সালাহউদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার দুই জনের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আবু তাহের ও মাসুমের নাম দেওয়া হয়েছে।

তেজগাঁও জোনের পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাসুমই তিনজনকে দক্ষিন বেগুন বাড়ির ওই স্থান দেখিয়ে ওয়াশিকুরকে হত্যার কথা বলেন। গ্রেপ্তারকৃত দুই জন একে আপরকে চিনেন না এবং আগে তাদের কখনও দেখাও হয়নি।”

তিনি বলেন, তারা যে ধরনের তথ্য দিচ্ছেন তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে সোমবার সকালে এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই জনতা ধাওয়া করে ওই দুই জনকে ধরে ফেলে। তিন হামলাকারীর মধ্যে এই দুই জন ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে লেখালেখির কারণে বিরোধ থেকে ওয়াশিকুরকে হত্যার কথা গ্রেপ্তার দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

২৭ বছর বয়সী ওয়াশিকুর তেজগাঁও কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে মতিঝিলের ফারইস্ট এভিয়েশন নামের একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বাবার নাম টিপু সুলতান, বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামে।

সামহোয়্যারইন ব্লগে ‘বোকা মানব’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেও তিনি মূলত লেখালেখি করতেন ফেইসবুকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

এর আগে হত্যাকাণ্ডগুলোর সময় আনসারুল্লা বাংলা টিমসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের নাম এলেও জিকরুল ও আরিফুল কোনো সংগঠনে জড়িত কি না, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। 

এদিকে ওয়াশিকুরের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।