কামারুজ্জামানের রায়ের কপিতে বিচারপতিদের স্বাক্ষর


প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৫

জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের খসড়ায় সই করেছেন আপিল বিভাগের চার বিচারপতি।

বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফিরোজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী খসড়া রায়ে সই করেন।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে আপিল বিভাগের কনিষ্ঠ বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী রায়ের খসড়াটি তৈরি করেন। পরে ৩৬ পাতার ওই রায়ের কপি তিনি উপস্থাপন করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কাছে। বিধি অনুসারে রায়টি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর কাছেও পাঠানো হয়।

সইয়ের পর এটি সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্টারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। বিধি মোতাবেক রেজিস্টারের কার্যালয় থেকে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো হচ্ছে। বিচারকদের স্বাক্ষরের পর রায়ের কপি লাল কাপড়ে বাঁধা অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এর আগে ৫ মার্চ কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ  (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন। ৪ মার্চ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, শিশির মনির, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

পরদিন রিভিউ আবেদন দাখিল শেষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, `৪৫ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমরা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের ৪৪টি অসঙ্গতি তুলে ধরেছি।`

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ চার বিচারপতির বেঞ্চ মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের আল-বদর বাহিনীর প্রধান কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আইজিপি (প্রিজন), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি কারাগারে দেখা করতে যাওয়া আইনজীবীদের রিভিউ আবেদনের নির্দেশ দেন কামারুজ্জামান। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্ব দেন কামারুজ্জামান। ২০১৩ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। গত বছরের ৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এএইচ/একে/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।