কদমতলীর ফোম কারখানা

বৈদ্যুতিক ত্রুটি সারিয়ে সংযোগ দিতেই আগুন, হাসপাতালে ফায়ার ফাইটার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৭ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান

রাজধানীর কদমতলীর একটি ফোম তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিটের প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী অতিরিক্ত হিটে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে কারখানার কর্মীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস বলছে, এই এলাকায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থাকায় বিদ্যুৎকর্মীরা এসে সেই ত্রুটি সমাধান করেন। পরে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিলে কারখানাটির ভেতরে থাকা সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব কথা বলেন।

কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আমরা ৬টা ২৪ মিনিটে আগুনের সংবাদ পাই। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাঁচপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটা ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আমরা আরও দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তারা এসে দেখে দাউদাউ করে চারদিকে আগুন জ্বলছে। যেহেতু আগুন মেইন রাস্তা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে, সে কারণে এসে চারদিকে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। পাশে একটা পুকুর পেয়েছি আমরা। পুকুরে অনেকগুলো পাম্প সেট করে আগুনের চারদিকে ব্যারিকেড দেওয়া হয় যেন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়াতে না পারে। ঠিক আমরা ৯টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।

আরও পড়ুন
আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় কদমতলীর ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি দুটি সেমিপাকা ভবনে আগুন ছিল। আমরা আসার পর দেখতে পাই দুটি ভবনে একই সঙ্গে আগুন। একটা ভবনের আগুন আমরা খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনি। আর আরেকটি সেমিফাকা ভবনের উপরের টিনগুলো পুড়ে যাওয়ার কারণে আগুনটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সময় লাগে। যেহেতু এখানে ফোম ইন্ডাস্ট্রি, বিশেষ করে পরিত্যক্ত যে ফোমগুলো আছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের, এই ফোমগুলো এনে রিসাইক্লিং করে তারা। ম্যাট্রেস তৈরি করে, সঙ্গে ম্যাট্রেসের জন্য কিছু ইমপোর্ট করা কাপড়ও ছিল এবং কিছু টায়ার জাতীয় জিনিস ছিল। যার কারণে আগুনটা খুব দ্রুত ছড়ায়, অনেক উপর দিকে উঠে যায়।

তিনি বলেন, যথাসময়ে সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে আগুনের চারদিকে ব্যারিকেড দেওয়ার কারণে আশপাশে কোনো আবাসিক ভবনে ছড়াতে পারেনি। আগুন নেভাতে গিয়ে প্রচণ্ড হিট হচ্ছিল। হিটে আমাদের একজন ফায়ার ফাইটার একটু অসুস্থ হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ আছেন।

আগুনের কারণ জানতে চাইলে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে বিশেষ করে জানতে পারলাম এই এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের একটু সমস্যা ছিল। যার কারণে বিদ্যুতের লোকজন এসেছিলেন এবং লাইনটা চালু করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের (ফোম কারখানার) ভেতরে যে সার্কিটগুলো ছিল সেগুলোতে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায়।

তবে পুরোপুরি নির্বাপণের পর তদন্ত সাপেক্ষে আগুনের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি। 

এর আগে এদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। ৬টা ৪৩ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। পরে একে একে ফায়ার সার্ভিসের আরও চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়ে কাজ শুরু করে। রাত ৯টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।