ঢাকা সিটি নির্বাচন : বিব্রত ভোটার পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসার


প্রকাশিত: ০৬:০০ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুটিতেই জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন এবং আনিসুল হক। যদিও ভোট গ্রহণের মাঝপথে সরকারদলীয়দের কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।

তবে সরেজমিনে রাজধানীর নির্বাচন কেন্দ্রগুলো ঘুরে বিব্রত ও অসহায় দেখাচ্ছিল বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষদেরকে,  পুলিশকে এবং প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে। চোখের সামনে স্পষ্ট অনিয়ম দেখেও অজানা ভয়ে এর প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউই।

সিটি নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই মাঠ ছিল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দখলে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের।

এদিন সকাল ৮ টা ৫ মিনিটে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কেন্দ্র সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় ৫০-৬০ জন মহিলার দীর্ঘ লাইন। পুরুষের লাইনে ১০০’র বেশী হবে। প্রায় সবার গলায় ইলিশ মাছ প্রতিকের কার্ড ঝুলানো। কারো কাছে কৈফত না চেয়ে নিজ উদ্যোগে উত্তর খোঁজা শুরু হল। উত্তর পাওয়া গেল ১৫ মিনিট পর। সাংবাদিকদের ক্যামেরা চলে যাওয়ার পরপরই দেখা গেল লাইন ভোটার শূন্য । উত্তরটা পাওয়া গেল। দেশের মানুষ যেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনকে ভোটার শূন্য না ভাবে তাই এরকম ব্যবস্থা। একই অবস্থা ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস হাই স্কুলেও।

ভোট কেন্দ্রের প্রধান গেটের ভেতর ভোটার, পুলিশ, কার্ডধারী সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। তাহলে এসব ‘নকল ভোটার’ ঢুকলো কিভাবে? উত্তর চাওয়া হল নেইমট্যাগহীন রমনা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। বিব্রত হলেন প্রশ্ন শুনে। জাগো নিউজকে উত্তর দিলেন, ‘কাউকে ঢুকতে দেয়ার কথা না।’ অথচ তার সঙ্গে কথা বলার পরেও ৪-৫ বার শো ডাউন করতে কেন্দ্রে ঢুকেছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

একই কেন্দ্রে বোরকা পড়া এক মহিলা ভোট দিয়ে এসে পুলিশকে অভিযোগ করলেন ভেতরে সিল দেয়া হচ্ছে, গিয়ে দেখেন। গেটের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে ‘অসহায়’ পুলিশ।

এবার ভোর পৌনে ৯ টায় কেন্দ্রে এলেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা। সরাসরি চলে গেলেন ভোট গ্রহণের রুমে। দেখলেন ব্যালট পেপার ভর্তি দুইটি ব্যালট বক্স। হিসেব অনুযায়ী পড়েছে ৫০০ ভোট। এতো সকালে দুইটি বক্স ভরে গেল, কিভাবে? প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রশ্ন করা হলে ‘বিব্রত’ হয়ে বললেন ‘এমনতো হওয়ার কথা না। আমি সবাইকে জিজ্ঞেস করে আপনাকে জানাচ্ছি’।

খিলগাঁও উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও ঘটেছে একই ঘটনা। দুপুরে কেন্দ্রটিতে গেলে ক্যামেরা নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয় খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ। উত্তরে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন থেকে নির্দেশ।’ তবে গতকালই ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে পুলিশের বাধা নেই।’

একইভাবে রাজধানীর মিরপুর, সুরিটোলা, লক্ষ্মীবাজার, লালবাগ নিউ মার্কেট, উত্তরাতে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিব্রতকর অবস্থায় অসহায়ভাবে দেখা গেছে প্রিজাইডিং অফিসার আর পুলিশকে।

এআর/এআরএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।