নেপালে ১১৭ কোটি টাকার পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্র্যাক
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালে দুর্গতদের সহায়তায় ব্র্যাক ১১৭ কোটি টাকার পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ দুই বছর মেয়াদে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বৃহস্পতিবার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকা নোয়াকটে দুর্গতদের জন্য সার্বিক সহায়তার লক্ষ্যে ব্র্যাক এ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় পাঁচ হাজার পরিবারের জীবিকানির্বাহে সহায়তা, ৩০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে মনো-সামাজিক কাউন্সিলিং প্রদান এবং শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া ২০০ মানুষকে পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে।
এছাড়াও ২ হাজার খানার (হাউসহোল্ড) মানুষকে অস্থায়ী বসতি করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে ভূমিকম্প প্রতিরোধক স্থাপনা নির্মাণ করে এদের পুনর্বাসন করা হবে বলেও জানানো হয়।
নেপালে ক্ষতিগ্রস্তদের কর্মসংস্থানে ব্র্যাক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বীজ ও সার বিতরণ, নার্সারি তৈরি, খাদ্যশস্যের গুদাম তৈরি, পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামার তৈরি, মুদিদোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান দেবে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার পরিবারের সদস্যদের জীবিকা ভাতা দেয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ইতোমধ্যেই ব্র্যাকের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ কোটি টাকা, ব্র্যাক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় ১ লাখ কর্মীর ১ দিনের বেতন থেকে ৪ কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ১শ’ ৫ কোটি টাকা ব্র্যাকের বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরপর দুইবার সংঘটিত ভূমিকম্পে নেপালের মানুষের মনে যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সার্বিক সহায়তা। তাই ব্র্যাক প্রাথমিক সাহায্যের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এস এন কৈরি সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নেপালে এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেপাল সরকারের নিবন্ধন, নেপালে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্র্যাকের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে নেপালে প্রাথমিক পুনর্বাসন কাজ শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। নেপাল সরকারের অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে নেপালে যাবে।
প্রাথমিক কাজের সাফল্যের ভিত্তিতেই দাতা সংস্থাসমূহ পুনর্বাসন সহায়তা দেবে উল্লেখ করে এস এন কৈরি বলেন, দাতা সংস্থাসমূহের দেয়া অনুদান নেপালের হিসাবে গ্রহণ করে সেখানেই ব্যয় করতে হবে।
ব্র্যাকের পরিচালক ড. আকরামুল ইসলাম বলেন, দুর্গতদের পুনর্বাসনে অস্থায়ী বসতি নির্মাণ ও ভূমিকম্প প্রতিরোধক স্থাপনা নির্মাণের স্থান নির্বাচন ও সম্ভাব্য নকশা তৈরির জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন।
আগামী সপ্তাহে এই প্রতিনিধিদল প্রতিবেদন পেশ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই বছর মেয়াদি এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্র্যাকের ১৩ জন কর্মী সেখানে কাজ করবে। তবে নেপালের সার্বিক পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে এই কার্যক্রমের ধরণ ও মেয়াদ পরিবর্তন হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির অনেক এলাকাই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। মৃত্যুবরণ করে হাজার হাজার মানুষ।
আরএস/আরআইপি