বরাদ্দকৃত টাকা ছাড়ার দাবি নারী উদ্যোক্তাদের
জাতীয় বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আগস্টের আগেই ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিআইডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধিরা। তারা জানান, সরকার প্রতিবছর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কারণে এর অধিকাংশই ছাড় দেয়া হয় না।
জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা জানান তারা।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের নারীরা শত প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। সাংবিধানিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের কথা বলা হলেও এটি একদিকে যেমন পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সজাগ নয়। নারীদের নানামুখী প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যে ধরনের বাজেট দ্বারা নারীরা সমাজে সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারবে, সমাজ-ব্যবস্থায় নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে- সেটাই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিভাবে মেয়েদের আরো বেশি সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যায় সে সব বিষয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি।
এ সময় উইমেন্স চেম্বরস অব কমার্সের প্রতিনিধিরা বিরোধী দলীয় নেতার কাছে আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার কথা বলেন। সেই সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সেই টাকার ৪০ কোটিও খরচ হয় না। শুধুমাত্র অর্থমন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালির কারণেই নারী উদ্যোক্তরা তাদের টাকা খরচ করতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব নারী উদ্যোক্তরা প্রকল্প দিলে সেই প্রকল্প অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ অনুমোদন পেতেই শেষ হয়ে যায় অর্থবছর। এজন্য প্রতি বাজেটের বরাদ্দকৃত টাকা খরচ হয় না।
এছাড়া নারী উদ্যোক্তরা দেশের বাইরে বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সব খুয়ানোর সংশয়ে থাকেন বলে রওশন এরশাদকে জানান। এজন্য দেশের বাইরে মেলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পণ্য বা সরঞ্জামাদির উপর ট্যাক্স কমানোর দাবি করা হয়।
বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে এসব তথ্য জানান বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ফখরুল ইমাম, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মেরিনা রহমান, হুইপ নূরুল ইসলাম ওমর, পীর ফজলুর রহমান, মামুনুর রশিদ, বেগম মাহজাবীন মোরশেদ, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি -এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিনা কাদের, প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ, বোর্ড পরিচালক সঙ্গীতা খান, বোর্ড পরিচালক তানিয়া হক প্রমুখ।
এইচএস/এসকেডি/আরআইপি