বাবার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী জাহিদুল খুন!
বাবা আব্দুল মান্নানের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়ে থাকতে পারেন রাজধানীর মিরপুরের ওষুধ ব্যবসায়ি জাহিদুল ইসলাম রাসেল (৪০)। এছাড়াও রাসেলের বাবার রাজনৈতিক শত্রুতা ও অর্থের লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কিংবা নিহতের পরিবার কেউই মামলা দায়ের করেননি। পল্লবী থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর অ্যাভিনিউ-এর মেডিকেয়ার ফার্মেসিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন রাসেল। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার ভাই রুবেল। রাত ২টার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
লাশের ময়না তদন্ত শেষে দাফনের জন্য কেরানীগঞ্জে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মিরপুর ১১ সেকশনের ৫ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়িতে থাকতেন রাসেল। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় তাদের গ্রামের বাড়ি। সন্তানহীন রাসেলের স্ত্রীর নাম ফারিয়া বেগম।
পুলিশের ধারণা বাবার রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যবসা ও অর্থ লেনদেনের জেরেও ছেলেকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. কাইয়ুমুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী রাসেল হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগরিরি খুনীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
পল্লবী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বাতেন ফকির জাগোনিউজকে বলেন, রাসেল দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। ৭ বছর হলো তিনি দেশে ফিরেছেন।
বিদেশে রোজগার করা টাকায় পল্লবীতে বড় একটি ওষুধের দোকান দিয়েছেন। নিজে দোকানে বসতেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছেলে হিসেবে রাসেল খুবই ভদ্র ছিলেন। এ কারণে কারা তাকে কেন খুন করতে পারে তা বলতে পারছে না এলাকাবাসী। তবে জাহিদুলের বাবা আব্দুল মান্নান বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানায় তারা। তিনি ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি জমি কেনা ও বেচার ব্যবসা করেন। বিভিন্ন জনের সাথে জমি কেনা-বেচার জন্য সহায়তা করে পারসেন্টেজ পান তিনি।
এছাড়া আব্দুল মান্নানের বিভিন্নজনের সাথে অর্থ লেনদেন রয়েছে। অর্থ লেনদেনের জেরে কয়েকজনের সাথে আব্দুল মান্নানের দ্বন্দ্বও চলছে। রাসেলের খুনের এটিও কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি জানান, রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যবসা ও অর্থ লেনদেনের মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
খুনের ঘটনায় কেন এখনো মামলা হয়নি জানতে চাইলে ওসি বলেন, নিহতের পরিবার দাফনের জন্য এখন গ্রামের বাড়িতে। তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। সেকারণে পুলিশের পক্ষে মামলা করা হচ্ছে না। মামলার পরপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
এব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান জাগোনিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। দাফন শেষে আবার ঢাকায় আসবো।’
তিনি আরো বলেন, “আমার ছেলেক যারা হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। এখন কিছু বলতে পারছি না। ঢাকায় এসে সব বলবো”।
জেইউ/এসআরজে