ছাত্রী পেটানো দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ
ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে বাড়াবাড়ি ও অপেশাদার আচরণের কারণে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে বখাটেদের হাতে কয়েকজন নারী লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ১০ মে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। সেখানে পুলিশ প্রতিবাদকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এসময় নারী নেত্রীদের মাথার চুল ধরে মারধোরের ছবি আসে গণমাধ্যমে।
পুলিশের হামলায় ছাত্র সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়। পুলিশের মারমুখী ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে পুলিশের দুই সদস্যের বাড়াবাড়ির প্রমাণ পায় কমিটি।
তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র ইউনিয়নের এক নেত্রীকে চুল ধরে ধাক্কা দেন পুলিশের নায়েক আনিসুর রহমান। আর লাথি মারেন নিউমার্কেট থানার এসআই শেখ তাজউদ্দিন। এই দুইজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে শেখ তাজউদ্দিন নিউমার্কেট থানায় কর্মরত হয়েও কেন এখানে গিয়েছিলেন- সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাস বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। বরং তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের আড়াল করা হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নায়েক আনিসুর রহমানকে সনাক্ত করে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার তদন্তে ডিএমপির পক্ষ থেকে যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিক, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিওরমেন্ট) মো. বেলালুর রহমানকে সভাপতি করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
অন্য দুই সদস্য হলেন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি। একই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।
জেইউ/এসআরজে