কাকরাইলে সারারাত পুলিশি নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০১:২৯ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অবস্থান করা নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাবলিগ-জামাতের একটি অংশ মসজিদটিতে প্রবেশ করতে চাইছেন। যদিও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, বুধবার সারারাত কাকরাইল মসজিদ এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে। রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাবিদ কামাল জাগো নিউজকে বলেন, নামাজের জন্য আসা মুসল্লিদের আমরা আশপাশের অন্য মসজিদের নামাজ পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। নিরাপত্তার স্বার্থেই এমনটি করা হচ্ছে। এখানে কোনোরকম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেড়েছি এখানে বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সেজন্য রাজধানীর কয়েকটি জোনের পুলিশ সদস্য এখানে এসেছে। সারারাত এখানে পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে।

এদিকে, এশার নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লিরা ফিরে গেছেন। কাকরাইল এলাকার আশপাশের বাসিন্দারা বুধবার এশার নামাজ পড়তে এলে তাদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

বুধবার সকাল থেকেই তাবলিগ-জামাতের একটি অংশের অনুসারীরা রাজধানীতে মাওলানা সাদবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। শাহজালাল বিমানবন্দর সড়কে তারা অবস্থান নেন। এর ফলে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর বিকেলে তাকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়। পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

media

কাকরাইল মসজিদের খাদেম কাওসার আহম্মেদ জাগো নিউজকে জানান, মাওলানা সাদের সঙ্গে এ মুহূর্তে সাতজন মসজিদে অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের অতিথি খানায় নিরাপত্তায় রয়েছেন। আমরা চাই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশে ইজতেমা হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খুব জরুরি না হলে কাউকে কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মূল গেটে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। গেটের আশপাশে সাংবাদিক ছাড়া কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না পুলিশ।

এর আগে সন্ধ্যায় তাবলিগ-জামাতের অনুসারীদের একটি অংশ রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় জড়ো হওয়ার ১৫ মিনিট পর তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা ট্রাকে করে কাকরাইল মসজিদের দিকে আসতে থাকেন। আর তাবলিগ-জামাতের মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভীবিরোধী স্লোগান দেন।

এরপর পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তাবলিগ-জামাতের অনুসারীরা আসর নামাজের পর কাকরাইল মসজিদের সামনে জড়ো হবেন এ ঘোষণার পর থেকেই মসজিদটির চারদিক ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।

সরেজমিনে কাকরাইল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাকরাইল মসজিদের সামনের থেকে মৎস্যভবন পর্যন্ত রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে তাবলিগের লোকজন ছোট ছোট জটলা করে দাঁড়িয়ে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ তাদের বহুদূর পর্যন্ত সরিয়ে দেয়। পুলিশকে কদম ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদরাসার ছাত্ররা এসেছিলেন তাদের মুরব্বিদের নির্দেশে।

এর আগে বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক ছেড়ে তাবলিগ-জামাতের অনুসারীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই দিকে চলে যান। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাদের একটি দল রাজধানীর কাকরাইল অভিমুখে যাত্রা করেন। অপর দলটি টঙ্গীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা সড়কে বসে পড়েছিলেন। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী।

আরএমএম/এমএইচএম/জেডএ/এমএস /জেআইএম