ইজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাবেন মাওলানা সাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:৩৫ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

দিল্লির তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য মাওলানা সাদ কান্ধলভী টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না দিয়ে দেশে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুইপক্ষের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা ৩টার দিকে শুরু হওয়ার এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টায় বৈঠক শেষ হয়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী বাংলাদেশে আসা উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই তাবলিগ-জামাতের একটি অংশের অনুসারীরা রাজধানীতে বিক্ষোভ করেন। সাদকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে তারা অবস্থান নেন। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

পরে কঠোর নিরাপত্তায় সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে বিকেলে মাওলানা সাদকে বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সাদ দেশত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেয় হেফাজতে ইসলাম।

এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেটা সবাই মেনে নিয়েছেন। টঙ্গীতে আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে যে ইজতেমা শুরু হবে, সেটা যথাযথভাবেই শুরু হবে। প্রত্যেকবারের মতো শান্তিপূর্ণভাবে তা হবে। যাদের নিয়ে বিতর্ক ছিল তারাও একটা সমঝোতায় এসেছেন। শুরা সদস্য ও আলেমরা।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ভারত থেকে সাদ সাহেব এসেছেন। সুবিধামতো সময়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে তার দেশে চলে যাবেন। তিনি টঙ্গীতে যাবেন না, মানে তিনি বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে যাবেন না। তিনি কাকরাইলেই অবস্থান করবেন। এখানেই তিনি নামাজ আদায় করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি এখানে (বাংলাদেশে) থাকবেন, কাকরাইলেই অবস্থান করবেন।’

‘আমরা আশা করি আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে শুরু হওয়া ইজতেমা সুন্দরভাবে শেষ হবে। আমরা গতকাল (বুধবার) থেকে দেখেছিলাম কিছু কিছু জায়গায় অসন্তোষ, আমাদের আলেম-ওলামারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আশা করি কাল থেকে কেউ রাস্তায় প্রতিরোধ তৈরি করবেন না। সবাই একমত হয়ে ফিরেছেন।’

ইজতেমায় কে মোনাজাত পরিচালনা করছেন জানতে চাইলে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্ত। শুরা সদস্যরা রয়েছেন, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে মোনাজাত করবেন। সেখানে আমরা ইন্টারফেয়ার করিনি। শুধু দুইপক্ষকে মিলিয়ে শন্তিপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা ছিল, সেটা আমরা করেছি।’

দুইপক্ষের যে বিরোধ সেটা মিটেছে কি না- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘বিরোধ মীমাংসা...আমার মনে হয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাও শেষ হবে। মূল বিরোধের কারণ সবাই উপলব্ধি করছে। আমি মনে করি বিরোধ দূর করতে যেখানে যাওয়ার যেখানে যা করার তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। আলেম ওলামারা বুদ্ধি পরামর্শ করছেন। আমি আশা করি আগামীতে এই বিরোধ আরও সুন্দরভাবে মিটমাট হয়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের ইজতেমার জন্য খ্যাত। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ হজের পরেই এই জায়গাটিতে একত্রিত হন। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব থেকে মানুষ এখানে আসেন। কাজেই সব মানুষের আগ্রহ থাকে ইজতেমা কবে শুরু হচ্ছে, কবে শেষ হচ্ছে। এবছরও ইজতেমা ১২ তারিখ থেকে শুরু হবে ১৪ তারিখে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব হবে দুই তিনদিন পরই। ভারতেও এই জামাতে নিজামউদ্দিন মারকাজ একটি বিতর্ক সৃষ্টি করে। সেই বিতর্কটি ধীরে ধীরে আমাদের দেশেও প্রবেশ করে।’

বাংলাদেশে শুরা সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছরও এটি পরিলক্ষিত হয়েছিল। আমরা দুই দলকে বসিয়ে একটা সমাধানে এসেছিলাম। এবার শুরু থেকেই দুই দলের মতপার্থক্য এত তীব্র ছিল যে এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কওমী মাদরাসা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একত্রিত হয়েছিল, যার জন্য তাবলিগ জামাতের সবাইকে নিয়ে আমাদের বারবার বসতে হয়েছে।’

‘বাংলাদেশ সরকার কথনও তাবলিগ জামাতে হস্তক্ষেপ করেনি এবং আগামীতেও করবে না। আমরা চাচ্ছিলাম সবাই মিলেমিশে ইজতেমা যেন সুন্দরমতো শেষ হয়। গত বছর হয়েছে, তার আগেও হয়েছে আগামীতেও হবে। সেই উদ্দেশ্যেই আমরা এই যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, শুরা সদস্য ও আলেম ওলামাদের মধ্যে তাদের একত্রে বসিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি।’

তাবলিগের ১১ জন শুরা সদস্যের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। শুরা সদস্যদের ওপরে উপদেষ্টা হিসেবে থাকা আলেম-ওলামারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফ, মাওলানা মো. নাসিম, ইউনুস সিকদার, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও কওমী মাদরাসা বোর্ডের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলীসহ অন্যান্য আলেম ওলামারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান ও আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেডএ/আইআই/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :