ঠান্ডায় কাঁপছে ইজতেমা ময়দান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৪:০৭ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮
ঠান্ডায় কাঁপছে ইজতেমা ময়দান

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ। শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত জনজীবন। কুয়াশা অার হিমেল হাওয়ায় দিশেহারা মানুষ। বিশেষ করে টানা শৈত্যপ্রবাহে উত্তর জনপদে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বইছে। পৌষের এ বৈরী অাবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে টঙ্গীর ইজতেমার মাঠেও।

রাত পোহালেই অাখেরি মোনাজাত। মোনাজাতের অাগের দিন প্রথম পর্বের ইজতেমায় যে চিত্র ছিল গতবারে, এবারে তাতে ভাটা পড়েছে। মুসল্লির সমাগম কম। রাস্তায় যানজট নেই। অথচ অন্যান্য বছরগুলোতে এমন চিত্র চোখে পড়েনি। ইজতেমা শুরুর পর থেকেই টঙ্গী, উত্তরা, অাশুলিয়ার সড়কগুলোয় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিশেষ করে অাখেরি মোনাজাতের অাগের দিন দুপুর থেকেই ইজতেমা ময়দানের অাশপাশে তিলধরার ঠাঁই থাকে না। ময়দান ও অাশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এবারে সে রূপ চোখে পড়ছে না। ময়দানে মুসল্লির সমাগম থাকলেও রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা।

শৈত্যপ্রবাহারের কারণেই এবারে সমাগম কম বলে মনে করা হচ্ছে। অাবার তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি (অামির) সাদকে ঘিরে যে বিতর্ক তারও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ijtema

ভোলা লালমোহন থেকে জামাত নিয়ে এসেছেন নুরুল ইসলাম। বলেন, অামাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না। বছর ধরে অামরা মেহনত করে থাকি বিশ্ব ইজতেমার জন্য। এবারে ভোলা থেকে যত জনকে টার্গেট করেছিলাম, তা পূরণ হয়নি। শীতের কারণেই সম্ভব হয়নি। গোটা দেশেই শৈত্যপ্রবাহ বইছে। জনজীবন বিপর্যস্ত। মানুষ চাইলেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এ কারণেই সমাগম কিছুটা কম বলে মনে করছি।

ইজতেমার শুরুর দিনই লক্ষ্মীপুর থেকে এসেছেন, বরহান প্রামাণিক। তার ৪০ জন মুসল্লি যোগ দেয়ার কথা ছিল। এসেছেন মাত্র ১৫ জন। বলেন, মুরুব্বিরা বেশিরভাগই অাসতে পারেন নাই। এ শীতে জোর তাগিদেও দেয়া যায়নি। ঈমানের জোরে যারা পারছেন, তারাই এসেছেন।

ইজতেমার মাঠে প্রবেশ দ্বারের কাছেই টুপি, জায়নামাজের দোকান দিয়েছেন ইসহাক বেপারি। বলেন, ৩০ বছর থেকে ব্যবসা করছি। দিন দিন মানুষ বাড়ছিল। দুই পর্ব হওয়ার পরেও এত কম মুসল্লি হয়নি। মোনাজাতের অাগের দিন পা রাখার জায়গা থাকে না। অথচ অাজ বিকেল বেলাতেও ফাঁকা। শীতের কারণেই মানুষ কম এসেছেন। অাবার মাওলানা সাদকে নিয়ে যে বিতর্ক তার কারণেও হয়ত অনেকে অাসেনি।

ijtema

বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে গত বুধবার ঢাকায় আসেন মাওলানা মোহাম্মদ সাদ। কিন্তু বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সমালোচিত মাওলানা সাদ ওই দিনই বিমানবন্দরে তাবলিগ জামাতের একাংশ ও আলামা-ওলামাদের বিক্ষোভ মুখে পড়েন। মাওলানা সাদ কান্ধলভী তার নিজের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাকে ইজতেমা ময়দানে যেতে দেয়া হবে না বলে জানান বিক্ষোভকারীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় ওই দিন বিকেলে তাকে কাকরাইলে নেয়া হয়। শুক্রবার তিনি এ মসজিদে জুমার নামাজে বয়ান করেন। আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা ছাড়েন।

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ৪ দিন বিরতির পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

এএসএস/জেএইচ/জেআইএম