মায়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে মাহিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৮
ফাইল ছবি

যেদিন রাতে মা আফসানা খানম টপি স্ট্রোক করেন সে সময় মায়ের পাশেই ঘুমিয়েছিল ছেলে তানজিব বিন সুলতান মাহি। অনেকক্ষণ মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে চিৎকার করে মাহি। এরপর উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয় টপিকে। সেখান থেকে নেয়া হয় শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে।

গত রোববার থেকে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৯টায় মারা যান নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপি।

প্রথমে বাবা আবিদ সুলতানের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা মাহিকে নিয়েই ছিল আত্মীয়-স্বজনদের দুশ্চিন্তা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে স্বামীর কাছে চলে গেলেন টপি। তার মৃত্যুতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে স্বজনদের। তবে মায়ের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও কাছে নেয়া হয়নি মাহিকে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আইসিইউ বিভাগের নিচে ডাক্তারের চেম্বারে রাখা হয়েছে তাকে।

টপির ফুফাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার শাহিনুর রহমান শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, গত রাতেও হাসপাতালে ছিলো মাহি। মায়ের খোঁজ খবর রেখেছে। ভোরে বাসায় চলে যায়। কিন্তু সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যু হয় মা টপির। সাড়ে ১০টায় দুঃসংবাদটি জানানো হয় মাহিকে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে মাহি। কোনোভাবে বোঝানো যাচ্ছে না। বারবার মায়ের কাছে যেতে চাইছে।

শাহিন বলেন, একটা ছেলে যার বাবার পর মাও এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা গেল তার মনের অবস্থাটা বুঝুন। আমরা সবাই ওকে সহযোগিতা করবো। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ আবিদ-টপির জান্নাত কামনায় দোয়া করবেন। মাহি যেন শোক কাটিয়ে শক্ত হতে পারে সেজন্য দোয়া কামনা করছি।

আবিদ সুলতানের ছোট ভাই ডাক্তার খুরশিদ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘সবার প্রতি অনুরোধ মাহিকে একা থাকতে দিন, ওর উপর দিয়ে ঝড় যাচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন ও দুশ্চিন্তা সব এখন ওকে ঘিরেই’।

এর আগে শুক্রবার সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম জানান, টপি মারা গেছেন।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার, ডাক্তার কাজী ইকরাম হোসেন বলেন, হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন টপি। তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আবিদ সুলতানের ভাই ও টপির বাবার উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে আফসানা খানম টপির মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় করছেন তার আত্মীয়-স্বজনরা। সেখানে তার ছেলে, বাবা ও দেবরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আছেন। টপির মরদেহ এখনও হাসপাতালেই আছে।

উল্লেখ্য, নেপালের ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার ফ্লাইটের ৫০ যাত্রী ও ক্রুর সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও। ওই দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে স্ট্রোক করেন টপি। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে।

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের জন্য একদিকে সারা দেশে যখন চলছিল শোক, তখন হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছিলেন আফসানা খানম টপি। তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে- স্বজনরা এমন খবরের অপেক্ষায় থাকলেও চিকিৎসকরা ভাল খবর দিতে পারছিলেন না।

গত ২০ মার্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক প্রফেসর ড. বদরুল আলম মন্ডল বলেছিলেন, ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী বেঁচে আছেন। তবে তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপূর্ণ। তার কিডনি, হার্ট, লিভার সব সচল রয়েছে। রক্ত চাপ ১২০/৮০। কিন্তু ব্রেন স্বাভাবিক রেসপন্স করছে না। যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।

২২ মার্চ তিনি আরও খারাপ খবর জানান। বলেন, টপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার কিডনি রেসপন্স কম করছে। ব্লাড প্রেসারও কমে গেছে, বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাতে নেই।

এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় এল সবচেয়ে খারাপ খবরটি। এই পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন টপি।

জেইউ/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :