৯ মাসের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ২৫ মার্চ ২০১৮

শুধু ২৫ শে মার্চ নয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন নয় মাসে বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করা উচিত বলে মনে করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে '২৫ মার্চের গণহত্যা' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ২৫ শে মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিভ্রান্তিটা শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে। তবে এই স্বীকৃতি এখন আর পাওয়া সম্ভব না। সরকার ২০০৮-০৯ সালে চেষ্টা করলে এই স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব ছিল। কারণ ইতোমধ্যে আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি হিসেবে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘের সেই স্বীকৃতিপত্রে বাংলাদেশ স্বাক্ষরও করেছে। তাই এখন আর এ দাবি করে লাভ নেই। আমাদের উচিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ মাসে এ দেশে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে তার স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা করা।

একাত্তরের ঘাতকসহ গণহত্যায় জড়িতদের বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশাল অর্জন আছে। বিশ্বে কোথাও এমন বিচারের নজীর নাই। অনেক আদালতে এই রায়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার হলেও সংগঠনের বিচার হচ্ছে না। এখনও জামায়াতে ইসলামীর বিচার হয়নি। অচিরেই তাদের বিচারও করতে হবে।

সেমিনারের অন্যতম আলোচক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি আমরা এখনও পাইনি। স্বীকৃতি আদায়ের কাজটি এখনও আমরা আন্তরিকভাবে করতে পারিনি। আজ রাতে (২৫ মার্চ) সারাদেশ ১ মিনিট ব্ল্যাক আউট থাকবে। ১ মিনিটের ব্ল্যাক আউট করে কি ৩০ লাখ শহীদের আর্তনাদের মর্মস্পর্শী কণ্ঠ সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারব? এখন আর দাবির তোলার সময় নেই, এখন সময়দাবি বাস্তবায়নের। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে আমাদের যা যা প্রয়োজন করা উচিত।

অনুষ্ঠানের মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। প্রবন্ধে তিনি ২৫ মার্চের গণহত্যার ভয়াবহতা, ব্যপকতা ও তৎকালীন পটভূমি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি প্রমুখ।

এআর/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :