ঘূর্ণিঝড় ‘ডেই’তে পরিণত হচ্ছে নিম্নচাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘ডেই’।

ঢাকা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা নেই। এটি বৃহস্পতিবার মাধ্যরাত নাগাদ ভারতের দক্ষিণ ওড়িষ্যা ও উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপ হচ্ছে একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ৫১ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে। আর কোনো ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ৬১ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে বলে ঘূর্ণিঝড়।

আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কি.মি. পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কি.মি. পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কি.মি. যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

Cyclone

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ওট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অধীন জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগরতীরের ৮ দেশের (বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওমান) আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়ে থাকে। ‘ডেই’ নামটি মিয়ানমারের দেয়া।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হওয়ার কারণে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে ঢাকায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়োহাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আরএমএম/এমএমজেড/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :