‘রায়ে সন্তুষ্ট, তবে তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট, তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। কারণ তারেক রহমানই ছিল গ্রেনেড হামলার মূল নায়ক।’

বুধবার সচিবালয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলার রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনও হাতে পাইনি। পেলে সেটা পুরোপুরি দেখে সিদ্ধান্ত নেব তারেক রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করবো কি না।’

এ রায়ের অনেক আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এই মামলার রায়ে যারা দণ্ডিত হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করব। আমরা যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি, তেমনভাবে এই মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত, হত্যাকারী, ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আদালত যাদের দণ্ড দিয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব।

তিনি বলেন, আজকে আমরা মনে করি বিচার পেয়েছে দেশবাসী। কোনো মামলায়ই বিচার করেনি বিএনপি। এমনকি তারা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলারও বিচার করতে পারেনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনোদিনই আইনের শাসন মানে না। আজকে আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছি, এখন সব মামলার বিচার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন সকালে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এ ছাড়া আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

এমইউএইচ/এমবিআর/এমএমজেড/আরআইপি