বাসে সাংবাদিককে মারধর : নিউ ভিশনের চালক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৯ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮

রাজধানীর পল্টন মোড়ে দৈনিক প্রথম আলোর অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক কমল জোহা খানকে (৩৮) মারধরের পর ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিউ ভিশন বাস চালকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পল্টন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাফিক সদস্যদের সহযোগিতায় চালক মো. রাসেলকে (২৬) বাসসহ (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-২৫৩৯) আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার ও তাদের উপর দিয়ে বাস চালিয়ে যাবার হুমকিও দেয় চালক।

শাহবাগ থানায় এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন আহত সাংবাদিক কমল জোহা খান।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, চালকের লাইসেন্স ও বাসটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই রুট পারমিটও।

কমল জোহা খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ছিল। অফিস শেষে প্রেস ক্লাব যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নিয়ে কারওয়ান বাজার থেকে নিউ ভিশন বাসে উঠি। উঠার সময় বাসে অল্প যাত্রী ছিল। তবে বাংলামোটরে যেতেই সিটিং সার্ভিস হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত ১০/১৫ জন যাত্রী উঠায়।

মৎস্য ভবন পার হওয়ার পর হেলপারকে বলি সামনেই প্রেস ক্লাব যাত্রীদের সরিয়ে আমাদের নামার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হেলপার ভাড়া আদায়ে ব্যস্ত। বাসটি প্রেস ক্লাব পার হয়ে পল্টন মোড়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছায়। এবার চালককে বাস থামাতে বললে তিনি রেগে যান। ইঞ্জিন বন্ধ করে চালকের আসন থেকে নেমে গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার শুরু করে। প্রতিবাদ করায় মুখে, মাথায় ও ডান পায়ের হাঁটুর নিচেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সজোরে ঘুষি ও লাথি মারেন। বাসের মেঝেতে পড়ে গেলে চালক পকেট থেকে পাঁচশ টাকা বের করে নেয় এবং স্ত্রী ও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়।

পরে দ্রুত বিষয়টি পল্টন মোড় ইউবিএল ট্রাফিক পুলিশ বক্সে জানালে এগিয়ে আসেন সার্জেন্ট জামিল। সার্জেন্ট বাসের সামনে দাঁড়িয়ে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বাসের কাগজপত্র চাইলে তাদেরকেও হুমকি দেয় এবং গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসে চালককে বাস থেকে নামিয়ে গাড়ি হেফাজতে ও চালককে আটক করে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

তিনি আরও বলেন, শাহবাগ থানায় মামলা করেছি। আশা করছি সুবিচার পাব।

সার্জেন্ট জামিল জানান, নিউ ভিশন বাসটির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজ ও রুট পারমিট নেই। যে কারণে বাস ও চালককে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার (২১ অক্টোবর) আদালতে পাঠানো হবে।

জেইউ/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন :