ওদের রিজিক লাল-সবুজে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

‘বিজয় দিবস ভাই, পতাকায় উজ্জীবিত হই, স্বাধীনতায় উজ্জীবিত হই।’ এমন হাঁকডাক ওয়াহিদ মুরান রনি ও ইকবালের। পেশায় তারা পতাকা বিক্রেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের সামনে ভ্যানে ফেরি করে জাতীয় পতাকা ও লাল-সবুজ পতাকাখচিত হাত ও মাথার ব্যাজ বিক্রি করতে দেখা যায় এই দুই যুবককে।

মুরাদ বলছিলেন, বিজয় দিবস বলে নয়, জাতীয় পতাকা বেচেই আমাদের রিজিক চলে। সারা বছর পল্টন মোড়ে আমরা ফেরি করে পতাকাসহ লাল সবুজের গেঞ্জি, টি-শার্ট, ব্রেসলেট বিক্রি করি। ও থেকেই কোনোরকম দিন চলে যায়।

Flag-Font

রোববার দুপুরে টিএসসি চত্বরের সামনে দেখা যায়, ভ্যানে থরে থরে সাজানো পতাকা, পতাকাখচিত গেঞ্জি। অনেকেই কিনছেন। ভ্যানের নিচে বসানো সাউন্ড বক্সে মৃদু স্বরে বাজছে জাতীয় পতাকা নিয়ে বানানো স্লোগান ও দেশাত্মবোধক গান। অনেকেই সঙ্গে শিশুদের নিয়ে এসেছেন। তাদের মাথায়ও পতাকাখচিত ব্যাজ।

পতাকা বিক্রেতা ইকবাল বলেন, ‘পতাকা বিক্রি করে আহামরি আয় হয় না আমাদের। কিন্তু কেন যেন নেশার মতো হয়ে গেছে। পতাকা ছাড়া অন্য কিছুতেই যেন ব্যবসায় মন টানে না।’

Flag-Font

নিয়ম মেনেই সঠিক মাপের পতাকা বিক্রির কথা বলেন ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের পতাকা আয়তাকার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০: ৬ এবং মাঝের লাল বর্ণের বৃত্তটির ব্যাসার্ধ দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ, পতাকার দৈর্ঘ্যের ২০ ভাগের বামদিকের ৯ ভাগের শেষবিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরলরেখার ছেদবিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র।’

‘পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু’-যোগ করেন ইকবাল।

Flag-Font

মুরাদ ও ইকবাল আক্ষেপ করে বলেন, ‘উৎসব উদযাপনে, রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে, কিংবা সরকারি-বেসরকারি ক্লাব, সমিতি, প্রতিষ্ঠানে এবং ব্যক্তিগত পরিসরে পতাকার ব্যবহারের হিড়িক পড়ে। তবে আগের মতো আর পতাকার বিক্রিতে কাটতি নেই। এবারও বেশ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় কমই।’

জেইউ/এসআর/এমএস