বৈশাখে ডুগডুগির বেঁচে থাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

সবাই যখন বৈশাখী সাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন ছোট্ট শিশুকে ব্যাগের উপর দাঁড় করিয়ে ডুগডুগি বিক্রি করছিলেন মলিন-বসনা জোসনা। হঠাৎ এক পথচারীর ধাক্কায় ছোটশিশু সাথী পাকার উপর পড়ে মাথায় আঘাত পায়। ভিড়ের মধ্যে দেখতে না পেয়ে ধাক্কা দেয়া পথচারীও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তাকে তোলার চেষ্টা করেন। ব্যথা পেলেও সাথীর কান্না দীর্ঘস্থায়ী হয় না, মা জোসনাও শুরু করেন ডুগডুগি বিক্রি।

আজ পয়লা বৈশাখ, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে রমনা পার্কের দিকে এগোতেই জোসনা ও তার মেয়ে সাথীর দেখা মেলে। মুগদার মাণ্ডায় থাকেন জোসনা। স্বামী রিকশা চালান, আর তিনি শাকসবজি বিক্রি করেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আড়াই শ’ ডুগডুগি বানিয়েছেন। আজ পহেলো বৈশাখের দিনে সেগুলো বিক্রি করতে ছোট্ট সাথীকে নিয়ে শাহবাগ এসেছেন তিনি।

dug

জোসনা জানান, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তিনি ডুগডুগি তৈরি করেন। এ ছাড়া বছরের অন্য সময় শাক-সবজি বিক্রি করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অপরপাশে ডুগডুগি বিক্রি করছিলেন মো. জহিরুল। রাজধানীর মানিকনগর থেকে আসা এই দোকানি জানান, বৈশাখকে সামনে রেখে তিনিও ৩০০ ডুগডুগি তৈরি করেছেন। বছরের অন্য সময় এগুলো তৈরি বা বিক্রি করেন না।

dug

বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ডুগডুগি যন্ত্রটি এখন অনেকটাই বিলুপ্তপ্রায়। আগে গ্রাম-বাংলায় এর দেখা মিলত হরহামেশাই। কটকটিওয়ালা, আইসক্রিমওয়ালা, চুরিওয়ালাসহ গ্রাম-বাংলার ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা এই ডুগডুগি বাজিয়ে নিজেদের আগমন জানান দিতেন। গ্রামের শিশু, বউ-ঝিরা টাকা, কেউ চাল, কেউবা ভাঙাচুড়া লোহালক্কড় দিয়ে তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনতেন।

সময়ের বিবর্তনে গ্রাম-বাংলার সেই ডুগডুগির আর দেখা মেলে না। তবে এখন রাজধানীতে বসবাস করা নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বাঁচার তাগিদে সেই ডুগডুগি বানিয়ে বিক্রি করছেন পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষ করে।

dug

শাহবাগ থেকে রমনা পর্যন্ত ছয়/সাতটি ডুগডুগির ভ্রাম্যমাণ দোকান চোখে পড়ে। দোকানিদের সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা যে ডুগডুগি বানাতেন, সেটার সঙ্গে তাদের তৈরি এই ডুগডুগির পার্থক্য রয়েছে। ওই ডুগডুগি চামড়া দিয়ে মজবুত করে তৈরি করা হতো। আর তাদের এই ডুগডুগি চায়ের দোকানে ব্যবহারের পর ফেলে দেয়া দুধের কৌটা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কৌটার ওপর সিমেন্টের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছেন। বিক্রি করছেন মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায়। শিশু, তরুণ-তরুণীদের এই ডুগডুগি সানন্দে কিনতে দেখা যায়।

পিডি/এমএমজেড/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]