ঈদে গরিব এই মায়ের বাড়তি আয়ের জন্য অসুস্থ শিশু ছেলেটিই ভরসা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ৩১ মে ২০১৯

‘তোর মামায় তরে ১০০ টাকা দিব। ল যাই, কামে যাই।’ রাজধানীর নিউমার্কেটের কাঁচাবাজার সংলগ্ন সুপার মার্কেটে ওঠার সিঁড়িতে মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকা আনুমানিক ৭-৮ বছরের এক শিশুকে উদ্দেশ করে এভাবে বলছিলেন তার মা।

মুখে কোনো কথা না বলে মাথা নাড়িয়ে না-সূচক জবাব দেয় ছেলেটি। এবার তার পাশে থাকা আরেক মহিলা শিশুটির কপালে হাত দিয়ে বলে ওঠেন, ‘কী কও তুমি! পোলার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।’ এবার শিশুটির মা বলে ওঠেন, ‘কী করমু, আমারে তো কেউ সাহায্য করে না। তবুও পোলারে দেখলে সাহায্য পাই। ওষুধ খাওয়াইছি, তবুও জ্বর কমে না। পোলায় বালা (সুস্থ) না অইলে ইনকাম নাই, ঈদও নাই।

কৌতূহলবশত এ প্রতিবেদক আলাপকালে জানতে পারেন, খাদিজা নামের ওই মহিলা গাজীপুর থেকে ছেলে মেরাজ, ভাই, ভাবি, ভাতিজা ও মামীকে নিয়ে তিনদিন আগে ঢাকায় বাড়তি ইনকামের জন্য এসেছেন। ছেলেকে ঈদের পর মাদরাসায় ভর্তি কর‌াবেন বলে মার্কেটে ঘুরে ঘুরে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন। ছোট্ট শিশুকে দেখে কেউ ফিরিয়ে দেন না। ১০-২০টাকা করে দেন। গত তিনদিনে হাজার তিনেক টাকা সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে ছেলের গায়ে জ্বর। গতকাল জ্বর নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু আজ আর বের হতে পারেন নি।

গাজীপুর থেকে কেন ঢাকায় এলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে খাদিজা বলেন, ‘ওখানের মানুষ এক-দুই টাকা দেয়। তাতে পোষায় না। ঢাকার মানুষের হাত বড়। তাই বাড়তি রোজগারের আশায় ছুটে এসেছেন।’

অসুস্থ ছেলেকে কেন পীড়াপীড়ি করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গেলে বাটপারি করে টাকা নিতে এসেছি বলে কেউ টাকা দেয় না। ঈদ করার জন্য শিশু ছেলেটিই এখন ভরসা। অয় সুস্থ না অইলে ইনকাম ও ঈদ বন্ধ হয়ে যাবে।’

এমইউ/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]