রাইড শেয়ারিং কোম্পানির লাইসেন্স ১ জুলাই থেকে

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ২১ জুন ২০১৯

নীতিমালা অনুমোদনের প্রায় দেড় বছর পর আগামী ১ জুলাই থেকে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে অবশেষে বৈধতা পেতে পাচ্ছে এ সেবা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. লোকমান হোসেন জানান, বৈঠকে জুলাই থেকেই রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নীতিমালা না থাকায় রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নিতে পারছিল না বিআরটিএ। এ কারণে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিআরটিএর প্রণীত ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭’ অনুমোদন করে সরকার, যা ওই বছরের ৮ মার্চ থেকে কার্যকরের কথা ছিল। তবে ওই নীতিমালায় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের জন্য লাইসেন্স (এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট) নেয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও, নীতিমালার শর্ত পূরণ না হওয়ায় কাউকে লাইসেন্স দেয়া যায়নি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ১৩ জুন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পর্যালোচনা সভায় বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লোকমান হোসেন বলেন, তাদের পক্ষ থেকে মোটামুটি সব শর্তই পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু অ্যাপ থেকে ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইনে (৯৯৯) কল করার ব্যবস্থা নিয়ে একটু ঝামেলা ছিল। পুলিশের যে কাজ করার কথা ছিল সেটা করতে পারেনি। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেটা ছাড়াই লাইসেন্স দেয়া হবে।

জুলাইয়ের শেষ নাগাদ রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর সঙ্গে ৯৯৯ যুক্ত হবে বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একেক প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ্লিকেশন একেক রকম। এ কারণে সমন্বয় করতে সমস্যা হচ্ছিল। আমরা সবার সঙ্গে বসে এটা সমাধানে কাজ করছি। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কোনো নীতিমালা না থাকায় উবার-পাঠাওয়ের কারে ধর্ষণ ও হত্যা, মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরণের মতো ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলো পার পেয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, পাঠাও ও উবার— এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। নিবন্ধন হয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ডেকে আনা হবে। সমাধান দিয়ে তারপর বিআরটিএ থেকে বের হতে হবে। অ্যাপস প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে বিআরটিএর রাইড শেয়ারিং সেল থেকে।

২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল লাইসেন্সের জন্য প্রথম আবেদন করে রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও। পরে ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড, পিকমি লিমিটেডসহ ১৬টি কোম্পানির আবেদন জমা হয়। আবেদন পাওয়ার পর ১০টি কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শন করে বিআরটিএ। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিং নীতিমালার কিছু ধারা পূরণ না করায়, লাইসেন্স দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে লাইসেন্স না পেলেও কোম্পানিগুলোর সেবাও বন্ধ করা হয়নি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর দেয়া এক চিঠিতে সবগুলো শর্ত পূরণে ‘প্রয়োজনীয় সময়’ দিয়ে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তাব করে বিআরটিএ।

এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]