গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের ঢল


প্রকাশিত: ০৬:৩৪ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫
ফাইল ছবি

বৃষ্টি বিড়ম্বনাকে উপেক্ষা করে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে নেমেছে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল। মঙ্গলবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে গাবতলীতে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়,  গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
 
গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মূলত উত্তরাঞ্চল ও খুলনা রুটে চলাচলকারী মানুষের সংখ্যাই বেশি। গত দুদিন ধরেই থেমে থেমে ঘরমুখো যাত্রীদের বৃষ্টি বাগড়া দিলেও মঙ্গলবার তা যেন মানতে চাইছে না যাত্রীরা। বৃষ্টি উপক্ষো করে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেন  গাবতলীর বাস কাউন্টারগুলোতে। ঈদ আনন্দে ভাসছে যেন পুরো টার্মিনাল এলাকা।

কাউন্টারের আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মওদুদ বলেন, তিন মাস পর গাইবান্ধায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। ঈদে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর তর যেন আর সইছে না।
 
খুলনার যাত্রী কেয়া আশরাফি। তিনি জানান, স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে গ্রামে ফিরছি। চাকুরির কারণে গ্রামে ফেরার সুযোগ হয়না। তাই ঈদে গ্রামে যাচ্ছি শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করবো।

বাস কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেক বেশি। তবে সে তুলনায় যানজট নেই। বড় যানজটের ধকল ছাড়াই মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
 
শ্যামলি পরিবহনের কাউন্টার কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন, ৯টি রুটে সকাল সোয়া ৬টা থেকে এক ঘন্টা পর পর বাস চলছে। এখন পর্যন্ত বড় যানজটের খবর পাইনি। তবে সাভার এলাকায় একটু যানজট আছে। বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিটা একটু বেশি হচ্ছে।
 
এসআর বাস কাউন্টারের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, যানজট না হলে সিডিউলে নড়চড় হবে না। রাত থেকে কর্মজীবী যাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের টিকিট বিক্রেতা বাবু জানান, অগ্রিম টিকিটের সময়ই বোঝা গেছে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর যাত্রীর চাপ বাড়বে।   

রংপুরগামী আগমনী পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা শরফত আলী জানান, ঈদে গাবতলীতে টিকিট দেয়া হলেও উত্তরাঞ্চলে রুটের সব পরিবহনের সকল বাস  কল্যাণপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।  
 
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বরাবরের মতো এবারও ঈদের আগে ও পরের তিনদিন করে  মোট ছয়দিন মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, পচনশীল দ্রব্য, ওষুধ ও জ্বালানিবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

জেইউ/এএইচ/পিআর