হায়রে জীবন!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ১০ মে ২০২০

ভরদুপুর। প্রখর রোদে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ওপর কিছু শাকসবজি, ফল ও মসলা সাজিয়ে বিক্রির আশায় দাঁড়িয়ে আছেন মধ্যবয়সী এক নারী। পায়ে একজোড়া স্পঞ্জের স্যান্ডেল, পরনে প্রিন্টের হাতা কাটা কামিজ ও ও এক রংয়ের সালোয়ারটি পুরনো এবং ময়লা। প্রখর রোদের কারণে দরদর করে ঘামছিলেন তিনি। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এই নারী।

জীবিকার তাগিদে কারওয়ান বাজারে অনেকেই শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে থাকেন-এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ মহিলার সামনে সাজিয়ে রাখা পণ্যগুলো যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তার সাজিয়ে রাখা পণ্যের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি বাঁধাকপি, রঙ জ্বলে যাওয়া বেশ কিছু করলা, ঢেঁড়স, কিছু পাকা মরিচ, দু-তিনটে আদা, দুটি পেঁয়াজ ও একটি শসা।

তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তার নাম মনি বেগম। রাজধানীর মহাখালীতে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন। স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

Nari

স্বামীর মৃত্যুর পর চোখে মুখে অন্ধকার দেখেন। সংসারের চাকা সচল রাখতে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। পরিচিত একজনের মাধ্যমে কারওয়ান বাজারে শাকসবজি ও ফলমূলের আড়তে আসেন। একজনের পরামর্শে কাকডাকা ভোরে উঠে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রাক থেকে নামানো শাকসবজি-ফলমূলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। পণ্য নামানোর পর দোকানিরা কিছু কিছু পণ্য পচন ধরার কারণে ফেলে দেন। তারা ফেলে দেয়ার পর মনি বেগম সেগুলো কুড়িয়ে যেগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো সেগুলো জমিয়ে রাখেন। পরে সেগুলো রাস্তায় রেখে বিক্রি করেন।

মনি বেগমের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এ পণ্য কারা ক্রয় করে। তিনি বলেন, এগুলো তো আর বড় লোকেরা কিনবে না, আমাদের মতো গরিব মানুষেরা কম দামে পায় বলে কিনে নেয়। তিনি বলেন, আগে ব্যবসায়ীরা একটু পচন ধরলে অনেক মাল ফেলে দিতেন। সেগুলো কুড়িয়ে বিক্রি করে বেশ ভালো আয় হতো। কিন্তু এখন সে ধরনের মাল কম পাওয়া যায় তাই আয় কমেছে।

এসব পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা আয় করেন মনি বেগম। কথার ফাঁকে জানালেন, তার দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে। বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। মেয়েদের পড়াশোনা চালাতে এবং সংসারের চাকা সচল রাখতে গত আট বছর ধরে এভাবেই পরিশ্রম করে চলেছেন মনি বেগম।

এমইউ/এসআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।