সরকার ওজোন স্তর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে : মন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

বর্তমান সরকার বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রমে সফল হতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সবুজ ও সোনার বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব ওজোন দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি প্রমুখ।

পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ওজোন স্তর রক্ষায় ১৯৮৫ সালের ২২ মার্চ গৃহীত ভিয়েনা কনভেনশন ও ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গৃহীত মন্ট্রিল প্রটোকল অনেক সাফল্যে গাঁথা। ১৯৯০ সালে এ দুটিতে স্বাক্ষরের পর গৃহীত কার্যক্রমের কারণে বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশও এই সাফল্যের অংশীদার।

তিনি বলেন, প্রটোকল অনুযায়ী বাংলাদেশে অন্যতম ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য সিএফসি, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফরম ও মিথাইল ব্রোমাইডের ব্যবহার বিগত ১ জানুয়ারি ২০১০ সালে রোধ করা হয়েছে। ২০১২ সালে ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত অবিশিষ্ট সিএফসির ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের সব কয়টি ধাপ যথাসময়ে সঠিকভাবে অতিক্রম করেছে এবং প্রটোকলের বাধ্যবাধকতা পালনের ক্ষেত্রে সচেষ্ট রয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ওজোন স্তর সংরক্ষণ ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি হতে প্রাণ-মণ্ডল রক্ষায় বিগত ৩৫ বছর পৃথিবীর সকল দেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার সমন্বিত ফলশ্রুতিতেই আজ ওজোন স্তর অনেকটাই সুরক্ষিত।

‘বর্তমানে মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় হাইড্রো-ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (এইচসিএফসি) ফেজ আউট করার কাজ চলছে, যা এয়ারকন্ডিশনার, অগ্নিনির্বাপন ও ফোম সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধন করে এগুলোর ফেজ আউট সিডিউল ১০ বছর এগিয়ে আনা হয়েছে। উক্ত এইচসিএফসির ফেজ আউটের লক্ষ্যে আমরা এইচসিএফসি ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করেছি। এইচসিএফসি ফেজ আউটের জন্য এমন সব বিকল্প প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে যা একই সঙ্গে ওজোন স্তর এবং জলবায়ুবান্ধব হবে। এ ধরনেরই একটি বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে আমরা অনেকটাই সফলভাবে এগিয়েছি।’

‘শুধু ওজোন স্তর রক্ষাকল্পেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও মন্ট্রিল প্রটোকল একইভাবে সাফল্য লাভ করবে। বাংলাদেশ বিগত ৮ জুন মন্ট্রিল প্রটোকলের সংশোধনী অনুস্বাক্ষর করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে’, বলেন মো. শাহাব উদ্দিন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় বাংলাদেশ ওজোন স্তর ক্ষয় প্রতিরোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সফল হবে ।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ওয়াল্টনসহ রেফ্রিজারেশন সেক্টরের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

এমইউ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]