নীলসাগর সকাল ১০টা ১০, একতা বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ এএম, ১৯ মার্চ ২০২৬
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় কমলাপুর রেলস্টেশনে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে/ছবি জাগো নিউজ

ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে গত ১৩ মার্চ থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেলেও বুধবার বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত ৯টি বগি উদ্ধার করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আপাতত ট্রান্সশিপমেন্ট পদ্ধতিতে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পঞ্চগড় থেকে আসা ট্রেন এবং ঢাকা থেকে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেন পরিবর্তন করে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।

দুর্ঘটনার কারণে উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও তা বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দুর্ঘটনার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। যাত্রীদের সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার সম্ভাব্য সময় জানানো হলেও এখনো ট্রেনটির প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়েও ট্রেন ছাড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

jagonews24

এদিকে ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ায় কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে স্টেশনের টয়লেট সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মেই বসে বা শুয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শিশুদের কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে কান্নাকাটি করছে।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী আমিনা খাতুন বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলবে। তাই ছোট বাচ্চা নিয়ে সকালে স্টেশনে চলে আসি। প্রথমে বলা হলো সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ছাড়বে। পরে সময় পরিবর্তন করে ১০টা ১০ মিনিট করা হয়। কিন্তু এখনো প্ল্যাটফর্মও দেওয়া হয়নি। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

আরেক যাত্রী মারুফা বলেন, ‘স্টেশনের ভেতরে পাবলিক টয়লেট আছে, কিন্তু এত যাত্রীর তুলনায় তা খুবই কম। ট্রেন দেরি হওয়ায় যাত্রীচাপ বেড়েছে। ফলে টয়লেট ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার স্টেশনের ভেতরে খাবারের দোকানও নেই। বাইরে যেতে গেলেও আবার টিকিট দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয়।’

আব্দুল্লাহ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি। যদি ৪-৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়, তাহলে ছোট বাচ্চাদের সামলানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। একদিকে ক্ষুধা, অন্যদিকে টয়লেট সংকট, সব মিলিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে।’

jagonews24

এদিকে ট্রেন বিলম্ব হওয়ায় স্টেশনের মাইক থেকে বারবার যাত্রীদের অবহিত করা হচ্ছে এবং দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে, ‘সম্মানিত যাত্রীরা, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন কিছু সময় বিলম্বিত হবে। এ বিলম্বের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

অন্যদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বহনকারী ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইএআর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।