সমন্বয়হীন উন্নয়ন কার্যক্রমে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১

বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নগরীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে টিটিপাড়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা জানান ডিএসসিসি মেয়র।

ফজলে নূর তাপস বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। কমলাপুর রেলস্টেশনের আশপাশের জায়গায় ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধতা থাকে। গত বছর এসব জায়গায় জলাবদ্ধতা হয়েছিল। সেজন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। বড় বড় নর্দমার সংযোগের কাজ শুরু করেছি। যেটা আগে ছিল না। তিনি বলেন, এভাবে আমাদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম চলমান। আমরা আশাবাদী জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণভাবে নিরসন হবে।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন মার্কেট বেদখল হয়ে আছে। বিভিন্ন দুর্বৃত্ত আমাদের মার্কেটগুলো দখল করে রেখেছে। মতিঝিল এজিবি কলোনি মার্কেট বেদখলে ছিল। মামলা-মোকাদ্দমা করে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মার্কেটের দোকানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তারা। এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় দোকানগুলো দখলমুক্ত করেছি।

শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের কারণে বেশকিছু ধরেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, এলাকার লোকজনের ভোগান্তি হচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাসের লাইন বন্ধ রয়েছে, ফলে শিল্প কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে মেয়র হিসেবে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। জলাবদ্ধতা নিরসনে যে কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছি এখানেও নতুন করে এমআরটি লাইন স্থাপনের জন্য আবেদন করেছেন তারা (মেট্রোরেল প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা)। আমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা সাংঘর্ষিক হচ্ছে। তেমনি শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলের জন্য আমরা বৃহৎ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কিন্তু পদ্মা রেলসেতুর যে কার্যক্রম সেই কার্যক্রমের কারণে পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে এখন পুরো শ্যামপুর শিল্পাঞ্চল এ সময়েও জলাবদ্ধতায় নিমগ্ন। তাহলে বর্ষা মৌসুমে কী হতে পারে-সেটা চিন্তা করলেই আতঙ্ক চলে আসে।

শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা তাদের বারবার বলেছি, তাদের অনুরোধ করেছি-আমাদের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন অন্ততপক্ষে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু তারা কোনো নজর দিচ্ছে না। এভাবে বিভিন্ন সংস্থা ঢাকাকে পুঁজি করে অপরিকল্পিতভাবে আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়া কাজ করছে। এতে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ দিনেদিন বাড়ছে। আমি আবারও সবাইকে অনুরোধ করবো-তাদের পরিকল্পনা প্রণয়নের আগেই যেন আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। মহাপরিকল্পনায় আওতায় আমাদের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেন তারা প্রকল্প নেয়। না হলে এ সংঘর্ষ হবে এবং ঢাকাবাসী এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা প্রায় নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যাতে করে আমরা পানি নিষ্কাশনে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি। এটা সময় সাপেক্ষ। আমাদের দরপত্র চলমান আছে। আবারও তাদের অনুরোধ করবো-আগামী ছয় মাসের জন্য অন্তত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেয়, খুলে দেয়। যাতে করে ভুক্তভোগীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন,‘মেট্টোরেল মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত যেটা এসেছে, সেটা এখন বর্ধিত করে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত আসবে। এটা নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সেটা যে আনবে, তারা যে পিয়ার দেবে বা কলাম দেবে-সেগুলো আমাদের যে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সেটার সঙ্গে কোনোভাবেই যাতে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটা আমরা কথা বলেছি। কারণ ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতায় রেখে আমরা ওপর দিয়ে শুধু কাজ করলে তো আর হবে না। এটা নিয়ে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে সামষ্টিক। উনারা বলেছিলেন আমরা যে নর্দমা করছি সেই নদর্মায় তাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। কিন্তু আজকে যখন তারা সরেজমিনে এলো— তখন দেখল যে, এটা সাংঘর্ষিক হচ্ছে। সুতরাং ঘরে বসে তারা পরামর্শক দিয়ে তারা যে নকশা করে, এগুলো আসলে কিন্তু কার্যকর না। সরেজমিনে এসে প্রত্যেকটা সংস্থা বিশেষ করে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করা ছাড়া যদি ঘরে বসে নকশা করে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

এ সময় জলবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের সুফল এরই মধ্যে ঢাকাবাসী পাওয়া শুরু করেছে জানিয়ে মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়েছি। প্রথম পর্যায়ে আমরা যেসব জায়গা বদ্ধ ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করেছি। এর সুফল ঢাকাবাসী গত বর্ষা মৌসুমে কিছু পেয়েছে। যদিও এবার বর্ষা মৌসুম প্রলম্বিত হয়েছে, প্রায় তিন মাস অবধি। কিন্তু তারপরও আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রথম পর্যায় ছাড়া বাকি সময়টা কোনো জলাবদ্ধতা ছিল না। দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়েছে। যার কারণে ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পেরেছি। এ কার্যক্রম ছিল স্বল্পমেয়াদি। আমরা এখন মধ্যমেয়াদি কার্যক্রম শুরু করেছি। বৃহৎ নর্দমাগুলো যেগুলোর অন্তর্জাল (নেটওয়ার্ক) ছিল না। সেই নর্দমাগুলোর সংস্কার করছি, সেখানে সংযোগ দিচ্ছি। তাতে আমরা মনে করি— ঢাকাবাসী আগের তুলনায় অনেক বেশি সুফল পাবে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

এর আগে ডিএসসিসি মেয়র এজিবি কলোনি কাঁচাবাজার এবং পরে ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ধোলাইরপাড়ে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সম্ভাব্য স্থান, কার্জন হল চত্বর (শিক্ষা ভবন সংলগ্ন) এবং সুফিয়া কামাল হল সংলগ্ন পথচারী পারাপার সেতু পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]