২০ এমপিকে নিয়ে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদীয় ককাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২১

কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত একটি পলিসি কনক্লেভে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন সংসদ সদস্য যোগদান করেন। যাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং আগামী বছরগুলোতে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রগুলো চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ অভিযানকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ২০ সংসদ সদস্যকে নিয়ে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদীয় ককাস’ গঠন করা হয়।

এতে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া উপদেষ্টা হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদীয় ককাসে কাজ করবেন। ইনস্টিটিউট অব ইনফরম্যাটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদীয় ককাসের সচিবালয় হিসেবে থাকবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে, যেকোনো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নীতিনির্ধারকদের অতি দরিদ্র এবং দুর্বল মানুষের কথা মাথায় রাখা জরুরি। সংসদ সদস্যরা বিশেষভাবে গতানুগতিক ইটভাটার কথা উল্লেখ করে এর বিকল্প দাবি করেছেন, যা শুধু পরিবেশ দূষণের কারণই নয় বরং আয় এবং কর্মসংস্থানের বৈষম্য হিসাবে কাজ করে। যেখানে গুটিকয়েক ইটভাটার মালিক লাভবান হয় এবং দরিদ্র কৃষকদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংসদ সদস্যরা বিশেষ করে নদীভাঙন বন্ধ করতে এবং দরিদ্র মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য টেকসই বাঁধকে তুলে ধরে জলবায়ু ন্যায়বিচারের কথা বলেন। তারা কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা ও অতীতের বৈষম্য দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থানে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ দিতে পার্থক্য মিটানোর বিষয়েও আলোচনা করেন।

কোটা আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যালঘু এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার পরামর্শ দেন, যা প্রস্তাব করার জন্য সংসদ সদস্যরা তাকে ধন্যবাদ জানান এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান।

জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রকৃতি এবং কাজের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) পাঠ্যক্রম আপডেট করার কথাও সংসদ সদস্যরা বলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে উদ্ভূত নতুন প্রবণতা সম্পর্কে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, অজানা ভবিষ্যতের কারণে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে প্রবর্তিত মানসিক বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত সংযোজনের মতো বিষয়গুলোও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে জানান। সংসদ সদস্যরা টিটিসির সংযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন দুর্বল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে কিছু গোষ্ঠী যেমন- ঝাড়ুদার সম্প্রদায়, হরিজন জনগোষ্ঠী যারা সাধারণত কর্মসংস্থানের অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে বাদ পড়ে যায়।

এ পলিসি কনক্লেভে যোগ দেওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, শফিকুল ইসলাম শিমুল, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রানা মোহাম্মদ সোহেল, ছানোয়ার হোসেন, শামসুন নাহার, মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার, মজিবুর রহমান চৌধুরী, তানভীর শাকিল জয়, আনোয়ার হোসেন হেলাল, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, আশেক উল্লাহ রফিক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]