কপ-২৬: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও যুব-নারীদের ভূমিকা বিষয়ে ওয়েবিনার

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২১

সারাবিশ্বের দৃষ্টিই এখন কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনের দিকে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হচ্ছে এ সম্মেলন। বাংলাদেশও সেখানে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলন গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়নের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ‘প্রভা অরোরা’র আয়োজনে ২৩ অক্টোবর ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং কপ-২৬: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত এবং যুব ও যুব-নারীদের ভূমিকা’ শীর্ষক জুম প্ল্যাটফর্মে একটি বিশেষ ওয়েবিনার আয়োজিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকেই যুব-যুব নারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতিবিদ ও সমাজচিন্তক চেয়ারম্যান (ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স (ডিএসসিই); চেয়ারম্যান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।

কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, দেশের ভেতর থেকে আমরা যে ইস্যুগুলো কপ-২৬ এ তুলতে চেষ্টা করব সেগুলো হলো, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এগুলোর মানে হলো ক্ষতিপূরণ কিন্তু তারা ক্ষতিপূরণ শব্দটা শুনতে রাজি নয়। তারা পরিষ্কার করে বলেও দিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউকের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আবার তাদেরও লস অ্যান্ড ড্যামেজ হচ্ছে। কিছু কনসালটেন্ট এই ইস্যুগুলোকেই সামনে আনতে চান। কিন্তু আমি খুব ভয় পাচ্ছি কপে এই ইস্যুগুলোকে সামনে নিয়ে এসে অন্যান্য যে বিষয়গুলো যেগুলো আমাদের মতো দেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হয়তো পিছে পড়ে যেতে পারে। একটা সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, আমাদের দরকার অভিযোজনের জন্য, রিস্ক রিডাকশনের জন্য, মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য, নদী ভাঙন কমাতে নদী খনন করার জন্য টাকা চাই আমরা। এই বিষয়গুলো আমরা সামনে কপ-২৬ এ তুলে ধরব। কিন্তু সিদ্ধান্ত সাধারণত দেশভিত্তিক হয় না বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো আমাদের সবাইকেই খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। বিশেষভাবে জানতে ও বুঝতে হবে তরুণ সমাজকে। দেশের স্বার্থটাও বুঝতে হবে এবং সে অনুসারে দাবি করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সেই দাবিটা সরকারের কাছে করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভালো প্রকল্প বানাতে হবে তা না হলে অর্থ পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে দক্ষ প্রকল্প বানানোর মানুষ খুব বেশি নেই। জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকৌশল নতুন করে যেটা প্রণীত হচ্ছে সেখানে আমরা কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), সাবেক উপাচার্য, বাকৃবি, সাবেক সদস্য, কৃষি ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন এবং প্রভা অরোরার উপদেষ্টা ড. এম. এ. সাত্তার মণ্ডল।

প্রধান অতিথির কথার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রয়োজন, যেটা প্রথমে অর্জন করতে হবে জলবায়ু কী, পরিবেশ কী এবং এগুলোর পরিবর্তন কীভাবে ঘটে এবং এই ধরিত্রীতে আমরা যারা বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করি তাদের আওতাভুক্ত কতটুকু আছে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং সেটা অভিযোজন করার অথবা সেটাকে হ্রাস করার।

তিনি আরও বলেন, আমরাই আমাদের ভাগ্যের নিয়ন্তা, পৃথিবী এভাবেই চলে এসেছে এবং সামনেও তাই চলবে। ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস থাকুক কিন্তু কার্যকরী যে শিক্ষা সেটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। তরুণদের একটু সতর্ক থাকতে হবে কারণ অনেকে অনেকভাবে আমাদেরকে বিপথগামী করতে পারে। তরুণরা এরই মধ্যে সমাজের সংবেদনশীল একটি অংশ। ক্লাইমেট চেঞ্জ ফান্ড আছে বাংলাদেশে এটার সঠিক ব্যবহার জরুরি। কারণ এটা সদ্ব্যব্যবহার হচ্ছে না সব জায়গাতে, কিছু অপচয়ও আছে। অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভা অরোরা জলবায়ু সংবেদনশীল যুব সংগঠন হিসেবে কাজ করছে, আমি এভাবেই মনে করি।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিধান চন্দ্র পাল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এসময় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্বিক দৃষ্টিকোণ (যেমন, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ব্যবস্থার সক্ষমতা ইত্যাদি) থেকে তরুণ সমাজকে যুক্ত করাটা এখন সবচাইতে জরুরি হবে। ফলে তাদেরকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনে আলোচিত হবে এবং সেই লক্ষ্যে প্রতিটি দেশ উপযুক্ত বাস্তবসম্মত কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করবেন- সেটাও আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করব। কপ-২৬ শেষ হলে সেখানে থেকে ফিরে এলে প্রধান অতিথির পরামর্শ অনুসারে অঞ্চলভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ণয়ের জন্য যুব ও যুব নারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রভা অরোরার পক্ষ থেকে আরেকটি আলোচনা জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে বলেও এ সময় তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সারাদেশের প্রতিটি বিভাগ থেকে আলোচনায় যুব ও যুবনারীদের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে মতামত দেন প্রমা গুলশান, তাসলিমা লিজা, মনিরুল ইসলাম, মাসুম রাসেল, কানিজ ফাতেমা সুরভী, তারিকুজ্জামান, আশিক বিন ইউসুফ, আশরাফুল ইসলাম, সায়মা খাতুন, আবু জাফর আল মনসুর, ফারহানা, স্মৃতি আখতার, রাকিবুজ্জামান রাকিব, আল আমিন প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রভা অরোরার উপদেষ্টা এবং পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ডা. আফতাব উদ্দিন এবং ওয়ার্ল্ড ফিশ-এর পক্ষ থেকে ড. আব্দুল ওহাব ওয়েবিনারে অংশ নেন।

এমআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]