কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোছা. কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) কুষ্টিয়ায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক নীল কোমল পাল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জাগো নিউজকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই দম্পতির জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫২ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখাসহ হস্তান্তর-স্থানান্তর করায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলাটি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কামরুন্নাহারের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৯ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে অনুসন্ধানকালে তার গ্রহণযোগ্য আয়- চাকরির বেতন-ভাতা ও রেমিট্যান্স প্রাপ্তি বাবদ ৫২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ টাকা পাওয়া যায়। আর বাকি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা বলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এছাড়া, কামরুন্নাহার আয়কর রিটার্নে পারিবারিক ও দান মিলিয়ে মোট ব্যয়ের হিসাবে ৬৫ লাখ ৯৬ হাজার ২৯২ টাকা দেখিয়েছেন, যার মধ্যে স্বামীকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে।
এজাহারে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বামী মো. রবিউল ইসলাম তার স্ত্রীর কামরুন্নাহারের সম্পদ অর্জনের প্রদর্শিত বৈধ উৎস ব্যতীত অন্য কোনো আয় না থাকার পরও নিজের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে বৈধ করতে স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা উপহার গ্রহণের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখতে সহায়তা করেছেন। এই কারণে স্বামী রবিউলকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
এসএম/এমআরআর