‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০১ জুলাই ২০২২
নন্দনকানন পুকুরপাড় এলাকায় রথপরিক্রমা উদ্বোধনের সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা

‘ভূ-তাত্ত্বিক সীমানা আত্মার সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হবে না। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে হবে।’

শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের নন্দনকানন পুকুরপাড় এলাকায় রথপরিক্রমা অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন এসব মন্তব্য করেন।

রাজীব রঞ্জন আরও বলেন, দুশ বছরের প্রাচীন নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথযাত্রায় মানুষের মিলনমেলা দেখে আমি অভিভূত।

তুলসীধামের মোহন্ত দেবদীপপুরী মহারাজের পৌরহিত্যে উৎসবে আশীর্বাদক ছিলেন পাহাড়তলী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য্য। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন ডা. বিনয় পাল।

কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামদাশ ধরের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, পুলক খাস্তগীর ও রুমকী সেনগুপ্ত, অনুপ বিশ্বাস, মো. সাহাবউদ্দিন, উত্তম কুমার চক্রবর্তী।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক বিধান ধর ও হিরন্ময় ধর। আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

এসময় অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। অতিথিরা তুলসীধামের তপোবন রথযাত্রা সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, চট্টগ্রাম সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়েছে। রথযাত্রা উৎসবে সবাই অংশ নিয়েছেন। এখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছেন। পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন প্রার্থনার সমতুল্য।

কালীপদ ভট্টাচার্য্য বলেন, জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র দেবের আশীর্বাদে জীবন হয় সুন্দর। সমস্যায় ঘেরা জীবনে মুক্তি দেন ত্রি-দেবতা। জীবনরথ পরিচালনায় এ রথযাত্রা অনুপম শিক্ষা দেয়।

মদনমোহন নরসিংহ গোপাল জীও মন্দির থেকে ঢোলক বাদ্য, মঙ্গল শাখ ও উলুধ্বনি দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র দেবকে রথারোহণ করানো হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে ও রথের রশি টেনে পরিক্রমা শুরু করেন তুলসীধামের মোহন্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

শোভাযাত্রায় অদ্বৈত-অচ্যুত মিশনের ভক্ত, জন্মাষ্টমী ছাত্র পরিষদ, বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের ভক্তরা যোগ দেন। সিএমপির রোডম্যাপ অনুযায়ী এসব রথ নিউমার্কেট থেকে লালদীঘির মোড় ঘুরে আন্দরকিল্লা এলাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে চেরাগী পাহাড় হয়ে প্রেস ক্লাব ঘুরে লাভ লেন সড়ক হয়ে পুনরায় নন্দনকানন পুকুরপাড়ে এসে শেষ হয়।

এদিকে তুলসীধামে রথযাত্রা উপলক্ষে নামযজ্ঞ, মদনমোহন পূজা, জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রের পূজা আয়োজন ও মহাপ্রাসাদ বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে ইসকন নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও গৌরনিতাই আশ্রমের আয়োজনে ডিসি হিলে ২৫তম (রজতজয়ন্তী) রথযাত্রা মহোৎসব আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠানমালায় ছিল- মঙ্গলারতি, গুরুপূজা, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, জগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রা মহারাণীর রাজবেশ দর্শন, বিশ্বশান্তি কামনায় হোমযজ্ঞ, রাজভোগ নিবেদন, কীর্তনমেলা, ধর্ম মহাসম্মেলন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মায়াপুরের অমিয় বিলাস স্বামী মহারাজ, গদাধর গোস্বামী মহারাজ। ডিসি হিল প্রাঙ্গণ থেকে মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে শুরু হয় রথ পরিক্রমা ও শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি চেরাগী পাহাড় থেকে আন্দরকিল্লা হয়ে নিউমার্কেট-বোস ব্রাদার্স মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

ইকবাল হোসেন/এসএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]