আইওর বৈধতা নিয়ে খালেদার আবেদন শুনানি বৃহস্পতিবার
বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) বৈধতা নিয়ে এবং মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রিটের শুনানি বৃহস্পতিবার আবারো অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রথম দিনের শুনানি গ্রহণ করে মামলা পুনরায় শুনানির এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।
এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশ দেন। আদালতের শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে এই মামলা বাতিল চাওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলায় তদন্তের দায়িত্ব পান সংস্থাটির উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। তাকে নিয়োগ দেন আরেক উপ-পরিচালক মো. আকরাম হোসেন।
মামলা বাতিলের আবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে দুদক কমিশন। আর কমিশন বলতে তিন কমিশনারকে বোঝায়। অতএব হারুন-অর-রশিদের নিয়োগ কমিশনের নয়।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে গত ৯ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আবেদনে বলা হয়, দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদকে ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। গেজেট ছাড়া এ নিয়োগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২০ (২) ধারার পরিপন্থী।
আইনজীবীরা জানান, জেরায় হারুন অর রশিদ বলেছেন- ‘আমাকে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে কি-না তা আমি বলতে পারি না। তবে মনে হয় করা হয়নি।’
এ কারণে হারুন-অর-রশিদের নিয়োগ অবৈধ দাবি করে এ মামলা বাতিলে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিতেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় আদালতে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।
ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এফএইচ/এসএইচএস/পিআর