বুলডোজার থেকে ভ্যান বাঁচাতে এক নারীর ছুটে চলা


প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৬

তুমি বাবুরে কোলে শক্ত কইরা ধইরা রাখো, আমি ভ্যান টাইন্যা লইয়া আহি- সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনের রাস্তা দিয়ে তড়িঘড়ি করে যাওয়ার সময় স্বামীকে উদ্দেশ করে কথাগুলো বলছিলেন আনুমানিক বিশ-বাইশ বছরের এক তরুণী মা।

অদূরেই আরেক ভ্যানওয়ালা চিৎকার করে উঠলেন, ‘ওই যে বুলডোজার আইয়া পড়ছে।’

এ চিৎকার শুনতে পেয়েই কোলের শিশুকে একহাত ধরে আরেক হাতে ভ্যানগাড়ি ঠেলতে লাগলেন তরুণীর স্বামী।

footpath

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বুলডোজার-আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই তরুণী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই তরুণী জানান, তার চোখের সামনে একজনের ‘চায়ের দোকান’ বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়। তার বাচ্চাটি তখন ফুটপাতে খেলছিল, কিছু দূরেই তার স্বামী ভ্যানগাড়িতে চা বানাচ্ছিলেন।

বুলডোজার আসতে দেখেই ছুটে এসে শিশুটিকে তার বাবার কাছে দিয়ে ভ্যানে ধাক্কা মেরে দোয়েল চত্বরের দিকে এগোতে থাকেন ওই নারী।

দোকানডা না থাকলে, না খাইয়্যা মইরা যামু- এ কথা বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, আমরা কি চুরি কইরা খাই, কইলে দোকান সরাইয়া লইতো?

সোমবারের এই উচ্ছেদ অভিযানের পর শুধু ওই দম্পতিই নয়, অংসখ্য হকারকে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। সশব্দে বুলডোজারটি এগিয়ে যাচ্ছিল আর সামনে ভ্যানগাড়ি-চৌকি যা-ই পড়ছিল তা-ই ভেঙে দিয়ে যাচ্ছিল।

footpath

৬ এপ্রিল ৫শ’ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করতে চানখারপুলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের দুই ধারের ফুটপাতে সকাল ১০টা থেকে অভিযান চলে।

নির্মিতব্য ইনস্টিটিউটের পশ্চিম পাশের ওষুধের দোকানের বাড়তি অবৈধ অংশ থেকে সাইনবোর্ড সরাতেও বুলডোজার চালানো হয়।

পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই এভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর জন্য অনেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমালোচনাও করেন।    

এমইউ/এনএফ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।