হ্যাঁ জিতলেই সংবিধান বদলে যাবে?

আমীন আল রশীদ
আমীন আল রশীদ আমীন আল রশীদ , সাংবাদিক, কলামিস্ট
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ প্রথম দিন থেকেই সরকার পরিচালনা করবে। পাশাপাশি ১৮০ দিন এটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং সদ্য বিলুপ্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, নির্বাচনের পরে কি তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ দিন বা ৬ মাস দায়িত্ব পালন করবে?

অর্থাৎ যদি গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয় তাহলে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা পর্যন্ত এই সরকারই বহাল থাকবে কি না? সেইসাথে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়ে যাবে কি না বা কোন প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়িত হবে—তা নিয়েও যে অনেকের মনে ধোঁয়াশা আছে, সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাজনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যাচ্ছে। উপরন্তু, গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার কী করতে চাচ্ছে বা সরকারের ইনটেনশন কী—তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ আছে বলে মনে হয়। ফলে বিষয়গুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে (ক) জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যারা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

(খ) জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। (গ) পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে সরকারের তরফেও বিবৃতি দেয় হয়েছে। সেখানে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে; বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টাও বলেছেন, ‘গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট হ্যাঁ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।’

এখানে বিষয়টা খুব স্পষ্ট যে, যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবেন, তারা প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন এবং এই সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সনদের কোন কোন বিধানের কতটুকু তারা রাখবেন বা রাখবেন না।

যেভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জুলাই সনদ এখন আর অ্যাবসোলিউট কোনো ডকুমেন্ট নয়। বরং এর প্রতিটি প্রস্তাব নিয়ে সংসদে তথা সংবিধান সংস্কার পরিষদে আলোচনা ও বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। সেই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যেসব প্রস্তাবের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য একমত হবেন, কেবল সেগুলোই পাস হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাবেন, কেবল সেসব সংস্কার বাস্তবায়নেই সরকার বাধ্য থাকবে।

পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা পুরো জুলাই সনদ অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। আবার যখন প্রতিটি প্রস্তাব নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে, বিতর্ক হবে, তখন তারা চাইলে কোনো কোনো প্রস্তাব বাদও দিতে পারেন। কোনো কোনো প্রস্তাব সংশোধিত আকারে পাস হতে পারে। অর্থাৎ সংসদে যে প্রক্রিয়ায় সাধারণ আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের সময় বিতর্ক হয়, আলাপ-আলোচনা হয়, জুলাই সনদ ইস্যুতেও সংসদে সেরকম আলোচনা হবে এবং স্পিকার এগুলো যখন ভোটে দেবেন, তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বললেই কেবল সেগুলো অনুমোদিত হবে।

জুলাই সনদের কিছু বিষয় সরাসরি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা যদি মনে করেন যে, সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বা যেভাবে আছে সেখানে তারা সংশোধন আনতে চান, অথবা তারা যদি মনে করেন যে, জুলাই সনদে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা একমত—সেটিও ভোটে দিতে হবে।

এর বাইরে সংসদের উচ্চকক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ, সংসদে এমপিদের কথা বলার স্বাধীনতাসম্পর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি বিরোধী দল থেকে নিয়োগের মতো বিষয়গুলোতেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। এসব প্রস্তাবের ওপর আশা করা যায় যে, দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হবে। এর মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষের বিষয়ে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা একমত হন তাহলে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, যার সদস্য সংখ্যা হবে একশো। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে এই একশো আসন বণ্টন হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলো এসব আসনের বিপরীতে তাদের সদস্য মনোনয়ন দেবে।

তবে উচ্চকক্ষের ব্যাপারে একটু জটিলতা আছে বলে মনে হয়। যেমন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হইবার পর ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হইবে এবং উহার কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হইবে। উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করিবার উদ্দেশ্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে। অর্থাৎ উচ্চকক্ষের ব্যাপারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না। কারণ এটা করতেই হবে। যদিও কোনো অন্তরায় তৈরি হয় তাহলে সংস্কার পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান করতে পারবে।

এটা বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানের সাথে এটি সাংঘর্ষিক এবং গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির পরিপন্থি। কেননা বর্তমান সংবিধানের বিধান (অনুচ্ছেদ ১৪২) হচ্ছে, দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি ব্যতিরেকে সংবিধানের একটি অক্ষরও পরিবর্তন করা যাবে না। যদিও জুলাই সনদে উল্লিখিত সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন করা যাবে মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে। অর্থাৎ ১৭৬ জন (সংরক্ষিত ৫০ জনসহ মোট সদস্য ৩৫০) সদস্য হ্যাঁ বললেই সংবিধানের যেকোনো সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়ে যাবে। এর বাইরে অন্যান্য প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে সংসদে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে। যেমন পরিষদে যদি কমপেক্ষ ৬০ জন সদস্য উপস্থিত থাকেন, তার মধ্যে ৩১ জন পক্ষে বললেই সেই প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে।

সরকার মূলত যেকোনো মূল্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় এবং তারা ৪৮টি দফায় যেসব প্রস্তাব করেছে—সেগুলো হুবহু অনুমোদন করাতে চায়। এটা ঠিক যে, জুলাই সনদে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জরুরি। যেমন যেমন, ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদের যে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হয়েছিল, সেখানে ৮৪টি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু এরপরে নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চূড়ান্তভাবে যে সনদ সরকারের কাছে পেশ করেছে সেখানে প্রস্তাব আছে ৪৮টি। এর মধ্যে ২৮টি সংসদ ও সংবিধানসম্পর্কিত। যেমন সংবিধানের মূলনীতি, প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রভাষা, নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও তার ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংসদের উচ্চকক্ষ, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো ইত্যাদি। সংবিধানের বর্তমান চার মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা) বদলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি করা হয়েছে।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ ছাড়াও বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), দুদকসহ রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ক্ষমতা বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এগুলো নিঃসন্দেহে জরুরি। ফলে এসব সংস্কারের কতটুকু কীভাবে গৃহীত হবে, সে বিষয়ে পরিষদে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

জুলাই সনদ আদেশ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত হবে এবং এটির কোনো অনুমোদন বা সম্মতির প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। বাস্তবতা হলো, যেকোনো সাধারণ আইনেও যেখানে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন হয়, সেখানে সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়ে তার অনুমোদনের বিষয়টি উপেক্ষা করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। হয়তো বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিবেচনায় নিয়ে এই বিধান করা হয়েছে। কিন্তু জনাব সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের পরে যে আর রাষ্ট্রপতি থাকবেন না, সে কথা তিনি নিজেই বলেছেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতিকে কোনো ব্যক্তি বিবেচনায় দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি প্রতিষ্ঠান। জুলাই সনদে একদিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা সাংঘর্ষিক।

মোদ্দা কথা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেই জুলাই সনদের বর্ণিত প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে বা সরকার সব প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য থাকবে—বিষয়টা এমন নয়। যদিও শুরুতে জুলাই সনদে একটি বিধান ছিল যে, যদি নির্ধারিত ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদ জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের অংশ হয়ে যাবে। কিন্তু সমালোচনার মুখে সরকার সেই বিধানটি বাতিল করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মেয়াদ ২৭০ দিন থেকে কমিয়ে ১৮০ দিনে নিয়ে আসে।

দ্বিতীয়ত, যেভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জুলাই সনদ এখন আর অ্যাবসোলিউট কোনো ডকুমেন্ট নয়। বরং এর প্রতিটি প্রস্তাব নিয়ে সংসদে তথা সংবিধান সংস্কার পরিষদে আলোচনা ও বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। সেই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যেসব প্রস্তাবের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য একমত হবেন, কেবল সেগুলোই পাস হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাবেন, কেবল সেসব সংস্কার বাস্তবায়নেই সরকার বাধ্য থাকবে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে একমত হবেন, সেটি সংবিধানে যুক্ত হবে। তার মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই প্রস্তাবিত জুলাই সনদের পুরো ডকুমেন্টটি অবিকল সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে—বিষয়টা এমন নয়।

এটা ঠিক যে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলোর সবই সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে পাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি কোনো দল (বিশেষ করে বিএনপি) নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী না হয়। সরকার, জামায়াত ও এনসিপির মনে সম্ভবত এই ভয়টা আছে যে, যেহেতু জুলাই সনদের অনেক প্রস্তাবেই বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি ছিল এবং ঐকমত্য কমিশন যখন নোট অব ডিসেন্টগুলো বাদ দিয়ে সনদের চূড়ান্ত খসড়া সরকারকে পেশ করলো, তখন বিএনপি যেহেতু এর কড়া সমালোচনা করেছে, অতএব নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপি জিতে গেলে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত—এরকম একটা ভয় অনেকের মনে আছে। সম্ভবত সে কারণেই এখন বিএনপি যাতে নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলেও এককভাবে অনেক বেশি আসন না পায়, সেই চেষ্টাটি ভেতরে ভেতরে আছে।

লেখক : সাংবাদিক ও লেখক।

এইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।