পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:১১ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছরও পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হবে। দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক। চলছে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্বোধনের প্রস্তুতি। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং ১ জানুয়ারি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চার রঙের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। এর সুফল তখনই পাওয়া যাবে যখন পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। এছাড়া সময়মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেয়াটাও একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ।

চলতি বছর ভুলে ভরা বই সংশোধন, ১২টি পাঠ্যবই পরিমার্জন, বিলম্বে টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদারদের ধর্মঘটসহ বেশ কিছু সঙ্কট সৃষ্টি হয়। তবে আগামী বছরের জন্য কঠোর মনিটরিং ও পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের আগেই টেকসই ও মানসম্মত বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৭৫৭টি বই প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের দাখিলে তিন কোটি ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৩টি, মাধ্যমিকে (উচ্চ বিদ্যালয়) ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯২১টি ও ইবতেদায়ির দুই কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ২৪টি, প্রাক-প্রাথমিকে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি, প্রাথমিকে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি বই ছাপার দরপত্র দেয়া হয়। এই বইগুলো যাতে সময়মত শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে সেটি নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

এ বছরের শুরুর দিকে বিতরণ করা বই নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। রচনার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রচয়িতাদের ব্যাপারেও ছিল অভিযোগ। কোনো রকমে দায়সারা গোছের কাজ করার নমুনাও ছিল যত্রতত্র। ঘুরে ফিরে পাঠ্যপুস্তকের রচয়িতা ও সংকলক গুটি কয়েকজনই। এখানেও এক সিন্ডিকেট। বাণিজ্যই যার লক্ষ্য। ছাপার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া বই বাঁধাই এবং আঠা লাগানোর ক্ষেত্রেও যত্নহীনতার ছাপ ছিল। এবার এর সব দিকেই নজর দেয়া হয়েছে-এমনটিই বলছেন কর্তৃপক্ষ। বই হাতে এলেই বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা। তবে আমরা আশা করবো অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।

মনে রাখতে হবে কমবয়সী শিক্ষার্থীরা এসব পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার করে। কয়েকমাস যেতে না যেতেই যদি বই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে না। বিনামূল্যের এসব বই বাজারে কিনতেও পাওয়া যায় না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই কাগজ, ছাপা, বাঁধাইসহ এবং বিষয়বস্তুসহ সবকিছুতে যেন বইয়ের মান ঠিক থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। গোড়ায় গলদ রেখে মান সম্পন্ন শিক্ষা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। এ জন্য শিক্ষার মান বাড়াতে হলে সবার আগে পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

‘বিতরণ করা বই নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। রচনার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রচয়িতাদের ব্যাপারেও ছিল অভিযোগ। কোনো রকমে দায়সারা গোছের কাজ করার নমুনাও ছিল যত্রতত্র। ঘুরে ফিরে পাঠ্যপুস্তকের রচয়িতা ও সংকলক গুটি কয়েকজনই। এখানেও এক সিন্ডিকেট। বাণিজ্যই যার লক্ষ্য। ছাপার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া বই বাঁধাই এবং আঠা লাগানোর ক্ষেত্রেও যত্নহীনতার ছাপ ছিল। এবার এর সব দিকেই নজর দেয়া হয়েছে-এমনটিই বলছেন কর্তৃপক্ষ।’