নিউ ইয়র্ক হামলা ও জঙ্গিবাদ

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:০৮ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
নিউ ইয়র্ক হামলা ও জঙ্গিবাদ

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশি আকায়েদ নামে একজন ট্যাক্সিচালক গ্রেপ্তার হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পেশায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি আকায়েদের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সরাসরি যোগাযোগ আছে কি না সেব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সে বলেছে, আইএস নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার কারণে সে ক্ষুব্ধ। এর প্রতিশোধ নিতেই সে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। পুলিশ বলছে, পাইপের তৈরি বোমায় ৯ ভোল্টের ব্যাটারি ছিল। বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় তার শরীরে ম্যাচ, ক্রিস্টমাস ট্রি লাইটও পাওয়া গেছে। তার কর্মস্থলের পাশে সে পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছিল। পরে বোমা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। তবে এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের নাগরিকদের সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না। ঘটনার এতটা সরলীকরণ হলে সেটা হবে বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয়। আমরা আশা করবো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনার সাথে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের ঘটনা মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। তবে জঙ্গি দমনে আরো সতর্ক হতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে জঙ্গিদের অপতৎপরতা নস্যাৎ করে দিতে হবে। দেশকে জঙ্গিমুক্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।

জঙ্গিবাদের সমস্যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। বৈশ্বিক এই সমস্যা নিরসনে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে সরকার। এ কারণে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সাফল্য দেখাচ্ছে। কিন্তু পুরোপুরি জঙ্গি নিপাত করা যায়নি। জঙ্গিবাদের পেছনে রয়েছে দেশি বিদেশি নানাচক্রও। জঙ্গিদের অর্থের উৎসব বন্ধ করা জরুরি। বন্ধ করতে হবে অস্ত্রের সরবরাহও।

জঙ্গিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরো জোরদার করাটাও এখন সময়ের দাবি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে এটা ঠিক কিন্তু জঙ্গিবাদ শুধু আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়। তাই প্রয়োজন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ।

দেখা যাচ্ছে গোটা পরিবারই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। নারী ও শিশুরাও জঙ্গিবাদের অভিশাপে জড়িয়ে যাচ্ছে পরিবারের কারণে। ধনাঢ্য পরিবারের পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায়দের ভেড়ানো হচ্ছে জঙ্গিবাদে। এ ব্যাপারে গভীর চিন্তাভাবনা করতে হবে। জঙ্গিতৎপরতা নজরে এলেই সেটি বন্ধে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। জঙ্গিবাদ সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াক এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। কারণ জঙ্গিবাদ উন্নয়ন ও প্রগতির অন্তরায়। এর অভিশাপ থেকে কেউ মুক্ত নয়। নিজ পরিবারের সদস্য সে যেখানেই থাকুন না কেন তার গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। আকায়েদের ঘটনা কিন্তু সে কথাই বলছে।

এইচআর/এমএস

‘জঙ্গিবাদ উন্নয়ন ও প্রগতির অন্তরায়। এর অভিশাপ থেকে কেউ মুক্ত নয়। নিজ পরিবারের সদস্য সে যেখানেই থাকুন না কেন তার গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। আকায়েদের ঘটনা কিন্তু সে কথাই বলছে। ’