জোট-ফ্রন্ট: চেতনার করুণ কাব্য

মোস্তফা কামাল
মোস্তফা কামাল মোস্তফা কামাল , সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮

আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর বিএনপির মাধ্যমে রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা প্রবীণ নেতা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী রয়েছেন বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে। জোট-অ্যালায়েন্স, ফ্রন্ট, লিয়াজোঁ কমিটি ইত্যাদি মিতালিতে যুগে যুগে এমনটিই হয়েছে। নিষ্ঠুর এ বাস্তবতার করুণ আলিঙ্গন ছিল ৫৪’র সেই ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্টেও। ঐতিহাসিক ওই সত্যতার মধ্যেই বাংলাদেশে এখন মহাজোট, ১৪ দল, ২০ দল, ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট ইত্যাদি মোর্চার পথচলা।

এসবের পেছনে কোনোকালেই রাজনৈতিক বা নৈতিক আদর্শের তেমন বিষয়আসয়ের প্রমাণ মেলে না ইতিহাসে। বরং প্রমাণ হয়, রাজনীতিতে চিরশত্রু বা মিত্র বলতে কিছু নেই, শেষ কথা বলেও কিছু নেই। ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে এর জন্ম। আদর্শিক মিল না থাকলেও কিছু কমন ইন্টারেস্টে গোটা পাকিস্তান কাঁপিয়ে যুক্তফ্রন্ট জন্ম নেয়। যুক্তফ্রন্টের মূল দুই শরীক ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত প্রদেশের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং ‘শেরে বাংলা’ আবুল কাশেম ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই প্রতিষ্ঠিত কৃষক-শ্রমিক পার্টি।

সেখানেও শেষ পর্যন্ত কেবল আদর্শ মুখ্য থাকেনি। যার জেরে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত যুক্তফ্রন্টে পরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও মাহমুদ আলীর নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট্রের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়। যুক্তফ্রন্টের মিত্র হিসেবে ভূমিকা রাখে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগ সম্পাদক আবুল হাশিমের খেলাফতে রব্বানী পার্টিও। এক পর্যায়ে যুক্তফ্রন্টে শরীক হয় মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টিও।

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি হিসেবে ১৯৫৪ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত ২১ দফায় প্রধানত পূর্ব বাংলার জনগণের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার করা হয়। তখন পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো সংবিধান ছিল না। প্রদেশের নামও ‘পূর্ব পাকিস্তান’ রাখা হয়নি। স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ২১ দফার ১৯তম দফায় বলা হয়েছিল, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলাকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেয়া ও সার্বভৌমিক করা হবে এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মুদ্রা ব্যতীত সকল বিষয়কে প্রদেশের কর্তৃত্বে আনা হবে। দেশরক্ষা বিভাগের স্থল বাহিনীর সদর দফতর হবে পশ্চিম পাকিস্তানে। আর নৌবাহিনীর সদর দফতর হবে পূর্ব বাংলায়। পূর্ব বাংলাকে আত্মরক্ষায় স্বয়ংসস্পূর্ণ করার জন্য প্রদেশে অস্ত্র নির্মাণের কারখানা স্থাপন করা হবে। আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

ঐতিহাসিক এ ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানী এবং পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের আহ্বায়ক ও অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই দু’জনের পাশাপাশি ছিলেন ‘শেরে বাংলা’ ফজলুল হক। তিনিও অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। ‘হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী’র নেতৃত্বেই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।

অন্যদিকে ছিল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনের নেতৃত্বে তৎপর ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগ। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়। ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট জিতেছিল ২২৩টিতে। এরমধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৪৩, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলাম পার্টি ১৯ এবং গণতন্ত্রী দল ১৩টি আসন পায়। অমুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত ৭২টি আসনের মধ্যে গণতন্ত্রী দল তিনটি এবং কমিউনিস্ট পার্টি চারটি আসন পাওয়ায় যুক্তফ্রন্টের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩০-ও। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ভাগ্যে জোটে মাত্র ১০টি আসন।

বিজয়ের পর ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় যুক্তফ্রন্টের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয় শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হককে। পরদিন ৩ এপ্রিল তিনি যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন। কোন দল থেকে কতজনকে মন্ত্রী করা হবে- এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এর জেরে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রথমে মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে। ফলে ৩ এপ্রিল ফজলুল হক মাত্র তিনজনকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করেন।

তারা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির আবু হোসেন সরকার ও সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়া এবং নেজামে ইসলাম পার্টির আশরাফউদ্দিন চৌধুরী। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মন্ত্রী নেয়া হয়েছিল ১৫ মে। মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদ, আবদুস সালাম খান, হাশিমউদ্দিন আহমদ এবং শেখ মুজিবুর রহমান। কেএসপির নেতা হলেও কফিলউদ্দিন চৌধুরীকেও আওয়ামী মুসলিম লীগের কোটা থেকে মন্ত্রী করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক ছাড়া মোট ১২ জনকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা। আদমজীতে সংঘটিত দাঙ্গা এবং পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করা হবে বলে কলকাতায় ‘শেরে বাংলা’র কথিত ঘোষণা প্রভৃতির অজুহাতে ২৯ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভাকে বাতিল করা হয়। একই সাথে পূর্ব বাংলায় ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ১২-ক ধারা জারি করে গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করা হয়। গভর্নর করা হয় মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জাকে। এর মধ্য দিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের রাজনীতিরই বাস্তবায়ন ঘটে। যার পরিণতিতে প্রতিষ্ঠাকালেই পাকিস্তান থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়।

পঞ্চান্নর ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তফ্রন্টের সংসদীয় দলের সভায় শেরে বাংলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। শুরু হয় যুক্তফ্রন্টে ভাঙনের আনুষ্ঠানিকতা। তখন কলকাতায় অবস্থান করা মওলানা ভাসানি বিবৃতির মাধ্যমে ঐক্য টিকিয়ে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েও যুক্তফ্রন্ট রক্ষা করতে পারেননি। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন আবু হোসেন সরকারের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলায় গঠিত মন্ত্রিসভা ‘যুক্তফ্রন্ট’ নাম নিয়েই শপথ নিয়েছিল। অর্থাৎ যুক্তফ্রন্ট সরকারই ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের প্রধান শরিক আওয়ামী মুসলিম লীগ এতে সুযোগ পায়নি।

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতের বাইরে হাতে গোনা কয়েকটি দল থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। জোট-মহাজোট, ঐক্যজোটে ভাঙা-গড়ার খেলাও জমেছে বেশ। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ ভোটের মাঠে কমছে কম দশ-এগারোটি জোট সক্রিয়। আদর্শের কিছু নেই এ খেলায়। পুরোটা আবার ভোটের অংকের বিষয়ও নয়। ভোট থাক বা না থাক নামসর্বস্ব প্যাডনির্ভর কিছু দলও এবার পলিটিক্যাল ভ্যালু পাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মুসলিম লীগ ও সদ্য গঠিত ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ একটি সংসদীয় ঐক্য গঠন করে। তবে, পরে তা টেকেনি। উল্লেখ্য স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচন হয়েছিল সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার আওতায়।

এরপর ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতির অধীনে। তবে ১৯৯৬ থেকে সর্বশেষ ২০০৮ সালের পর পর তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায়। ১৯৭৩ সালে কোনো জোটের রাজনীতি ছিল না। ছিল না ইসলামপন্থী কোনো দলের অংশগ্রহণও। মোট ৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল ২৯২ আসনে। ওই সময় বিরোধীদলে ছিল জাসদ, ন্যাপ (মোজাফফর)। যারা এখন সরকারি জোটের অন্যতম শরিক। ওই নির্বাচনে ন্যাপ (মোজাফফর) ২২৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল মাত্র একটি আসন। আর জাসদও ২৩৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে পায় একটি আসন। ভাসানী ন্যাপ ১৬৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে পায় একটি আসন। স্বতন্ত্ররা জেতেন চারটি আসনে।

ওই সময় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জোট গঠনের কথা না বললেও, নির্বাচনের পরপরই মস্কোপন্থী মোজাফফরের ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার আহ্বান জানান। ১৯৭৩ সালের মে মাসে এ তিন সংগঠনের মধ্যে একটি জোট হয়। ধীরে ধীরে তা অন্যান্য দলের দিকেও গড়ায়। চার মাসের মধ্যে তিয়াত্তরের সেপ্টেম্বরে সরকার রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিকে সামনে রেখে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করবে বলে ঘোষণা দেয়।

অক্টোবরে গঠিত হয় বহুল আলোচিত 'গণ ঐক্যজোট' । ১৯ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে ১১ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের। ন্যাপ মোজাফফরের পাঁচজন। আর তিনজন সিপিবি থেকে। তখনকার রাজনীতিতে আলোচিত হলেও জোটটি সংসদীয় নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। কারণ নির্বাচন হয়েছিল এর আগে মার্চে।

৭৯-তে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই গণ ঐক্যজোটের কোনো প্রতিফলন ছিল না। এরপর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭৬ আসন পায়। জামায়াতে ইসলামীর সেটিই প্রথম নির্বাচন। তারা পায় ১০ আসন। এছাড়া- ন্যাপ ২, যুক্ত ন্যাপ ৫, সিপিবি ৫, আসন পায়। কিন্তু কোনো জোট করেনি। এরশাদের অধীনে দ্বিতীয় ও সংসদের ইতিহাসে চতুর্থ নির্বাচনকে কোনো উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় না। তবে, ওই নির্বাচনে আসম রবের ৭৩ দল নিয়ে সম্মিলিত বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার একটি জোট চর্চা হয়েছে ওই নির্বাচনে।

এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বাপরেই জোট রাজনীতিতে আসে নয়ারূপ। এর আগে, আন্দোলনের মাঠে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনো ৮দল, কখনো ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল ধরনের ঐক্যের ভিন্নমাত্রার প্রতিফলন ঘটে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাঠে আলাদা থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির নতুন বোঝাপড়া ওই নির্বাচনে বেশ আলোচিত ঘটনা। কিন্তু তা-ও বেশিদিন টেকেনি। এক পর্যায়ে জামায়াত ভিড়ে যায় আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটিতে। আনুষ্ঠানিক জোট না হলেও ওই তিনদল মিলে বিএনপিকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো আসন ছাড়েনি। ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে মিত্রতা থাকলেও জাতীয় পার্টি ২৯৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পায় ৩২ আসন। অন্য 'মিত্ররা' কোনো আসন পায়নি। বিএনপি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পায় ১১৬ আসন। তাদের 'মিত্র' জামায়াতে ইসলামীও ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আস পায় ৩টি। জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘনঘটা হয় পরের নির্বাচনে। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি জোটবদ্ধ নির্বাচন করে শরিক জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, ও নাজিউর রহমানের জাতীয় পার্টির সঙ্গে । বিএনপি ওই নির্বাচনে ২৫২ প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হয় ১৯৩ আসনে। ৩১ আসনে নির্বাচন করে জামায়াত জেতে ১৭ আসনে।

জোট-ফ্রন্টবাজীর ছিলছিলায় বাংলাদেশের দুই বর্ষিয়ান রাজনীতিক এখন ভিন্ন বলয়ে। মোটাদাগে মনে করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করে। এই চেতনার বাইরের শক্তির অন্যতম বি.চৌধুরী। তিনি মরহুম জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতি চেতনায় সমৃদ্ধ বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি নিজে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। জিয়ার গড়া দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব তিনি। মন্ত্রী, সংসদ উপনেতা, রাষ্ট্রপতি সবই তার এ দল থেকেই পাওয়া। ড. কামালের প্রায় একই দশা। আওয়ামী লীগ তাকে রাষ্ট্রপতি করতে পারেনি। তবে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে।

এই ড. কামালই পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে শেখ হাসিনাকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে দলের নেতৃত্বে বসান। কামাল-বদরুদ্দোজাকে ঘিরে জোট রাজনীতিতে একুল ভেঙে ওকুল গড়ার নতুন মাত্রা এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তাদের পরিণতিও ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাকলো।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন।

এইচআর/জেআইএম

ড. কামালই পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে শেখ হাসিনাকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে দলের নেতৃত্বে বসান। কামাল-বদরুদ্দোজাকে ঘিরে জোট রাজনীতিতে একুল ভেঙে ওকুল গড়ার নতুন মাত্রা এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তাদের পরিণতিও ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাকলো।