রেলসেবা কবে জনবান্ধব হবে?

আমীন আল রশীদ
আমীন আল রশীদ আমীন আল রশীদ , সাংবাদিক, কলামিস্ট
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

অফিস শেষে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে ঘরমুখো হাজারো মানুষের ভিড় আর কাঙ্ক্ষিত ট্রেন ধরতে তাদের ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটার দৃশ্য যারা দেখেছেন—তারা বাংলাদেশের রেল সার্ভিসের সঙ্গে এর কোনো তুলনা খুঁজে পাবেন না।

প্রথমবার এ দৃশ্য দেখার পরে আমাকে বিস্মিত হতে দেখে কলকাতার সাংবাদিক শুভজিৎ প্রশ্ন করেছিলেন, ঢাকা শহরে কি এটা কল্পনা করা যায় যে, একজন মানুষ ১০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মোটামুটি খেয়েপরে ভালো আছেন? কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এটি সম্ভব, তার প্রধান কারণ এই রেলসেবা। অত্যন্ত কম খরচে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বহু দূর থেকে কলকাতা শহরে এসে অফিস করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। নিজের বাড়িতে থাকেন। ফলে তাদের ঘর ভাড়া লাগে না। তাছাড়া বাংলাদেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে জীবনধারণের খরচও কম।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতেই রেলপথ হচ্ছে প্রধান গণপরিবহন। শত মাইল দূরত্বে মানুষ দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে এবং কম খরচে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর থেকে কলকাতার হাওড়ায় আসার পথে কল্যাণ বোস নামে একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে পরিচয় হয়, যিনি প্রতিদিন কলকাতা শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরের এই খড়্গপুরে আসা-যাওয়া করেন। ভরসা একটাই, নিয়ম মেনে চলা ট্রেন; সাথে সাশ্রয়ী ভাড়া। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও ‘নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে’ প্রবাদটি বহাল। রেলসেবার উন্নতি যে কিছু হয়নি, তা নয়। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে এখনও যেসব দুর্ঘটনা আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাতে রেলসেবা এখনও মানুষের কাছে পুরোপুরি আস্থা আর ভরসার গণপরিবহন হয়ে উঠতে পারেনি। সম্প্রতি পরপর দুটি দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের রেলসেবা কী ভয়াবহ অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

১২ নভেম্বর ভোর রাত তিনটার দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দভাগ স্টেশনের কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত আরও অনেকে। এর একদিন পরেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়, যার মধ্যে তিনটিতে আগুন ধরে যায়। আহত হন অন্তত ৫ জন। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রেলসচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, এসি রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি আরও ভয়াবহ। সেখানে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করে বিপরীত দিকের ট্রেনের উপরে গিয়ে পড়ে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, এটা ঘটেছে মূলত চালকের বেখেয়ালের কারণেই। যদিও ১৪ নভেম্বর সংসদের সমাপনি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুয়াশার কারণে চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি। শীতকালে এলে ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ঠেকাতে কী করা যায় তাও সরকার দেখছে। তবে পরপর দুটি দুর্ঘটনার পেছনে কোনো দূরভিসন্ধি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানান সরকারপ্রধান। বলেন, পুরনো রেলসেতু মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়কে নতুন প্রকল্প নিতে বলা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার রেল বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রেলের উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। এখন রেলের জনবল বাড়াতে হবে। কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

সারা পৃথিবীতেই রেলপথ সবচেয়ে নিরাপদ গণপরিবহন। সর্বাধুনিক বুলেট ট্রেনের গতি এত বেশি যে, মুহূর্তের মধ্যে তা পৌঁছে যায় শত মাইল দূরত্বে। তাছাড়া রাজধানী ও বড় শহরের সঙ্গে পার্শবর্তী ছোট শহর, শহরতলী ও গ্রামের নিরবিচ্ছিন্ন ও সহজ যোগাযোগের জন্য লোকাল ও কমিউটার ট্রেনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যার যে বিপুল জনসংখ্যার চাপ, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব কেবল আশপাশের শহরের সঙ্গে এর উন্নত ও দ্রুত রেল যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে। কারণ পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর এমনকি কুমিল্লার মানুষও প্রতিদিন ট্রেনে চেপে যদি রাজধানীতে এসে অফিস করে বাড়ি ফিরতে পারেন তাহলে তিনি কেন অনেকগুলো টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকা শহরে থাকবেন?

আবার যাদের বাড়ি এইসব আশপাশের জেলায় নয়, তারাও বেতনের একটা বড় অংশ খরচ করে ঢাকায় না থেকে তার চেয়ে অনেক কম ভাড়ায় রাজধানীর পার্শবর্তী বিভিন্ন শহর বা গ্রামে গিয়ে আরামে থাকতে পারবেন। তাতে একদিকে রাজধানীর উপর বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। কারণ যে ভাড়ায় তিনি ঢাকা শহরে থাকেন, তার অর্ধেক ভাড়ায় অনেক উন্নত, পরিচ্ছন্ন আর খোলামেলা বাসায় থাকতে পারবেন। তাকে শুধু সময়মতো অফিসে আসা এবং বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তাটুকু দিতে হবে। তখন রাজধানী ঢাকাও আর অতি জনসংখ্যার ভারে ন্যূব্জ হয়ে পড়বে না। পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিনি দেড়শো দুইশো কিলোমিটার ট্রেনে যাত্রা করে অফিস করেন। কারণ তাদের নয়টার ট্রেন নয়টায়ই ছাড়ে। সেসব ট্রেন অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং যথেষ্ট নিরাপদ।

এসব বাস্তবতা মাথায় রেখেই ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে নতুন রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রেলওয়েকে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, যুগোপযোগী ও গণমুখী গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলা যায়। শুধু তাই নয়, রেল যোগাযোগ ও পরিবহন পরিসেবার মানোন্নয়কে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প-২০২১ শীর্ষক জাতীয় দলিলেও অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রেলে এখন বরাদ্দও অনেক বেশি। সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯-এ বলা হয়েছে, নতুন অনুমোদিত রেলওয়ের মহাপরিকল্পনায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০৪৫ সালের জুন পর্যন্ত ৬টি পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতকিছুর পরও দেশের রেলসেবা কতটুকু জনবান্ধব হয়েছে?

সরকারের হিসাবে বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেললাইন নেটওয়ার্কে ৪৪টি জেলা সংযুক্ত রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৩০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ, ২৪৮ কিলোমিটারর মিটারগেজ রেললাইনডুয়েল গেজে রূপান্তর, ১১৩৫ কিলোমিটার রেললাইন পুনঃনির্মাণ ৯১টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ২৯৫টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমাদের রেলসেবায় এখনও জনআস্থার দোলাচল রয়ে গেছে। এর একটি বড় কারণ বছরের পর বছর এই খাতকে অবহেলা করা হয়েছে।

যেহেতু সড়ক পরিবহন ব্যবসার সাথে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা যুক্ত, ফলে তারা কখনোই চাননি বা এখনও চান না রাষ্ট্রায়ত্ত রেলসেবা উন্নত হোক। সম্প্রতি ঢাকা-কুড়িগ্রাম সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু যেদিন এই সেবা চালু হয়েছে, তার পরদিনই এই ট্রেনের বিভিন্ন সিট ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা, ফ্যান ভাঙা আর টয়লেটের কল নষ্ট করার ছবি গণমাধ্যমে এসেছে। কারা এটি করেছেন তা জানতে খুব বেশি গবেষণা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। মূলত যারা চান না দেশের রেলসেবা উন্নত হোক, মানুষ দলে দলে রেলে যাতায়াত করুক, এসব নাশকতা তাদেরই।

এসব কারণে বলা হয়, রেলসেবা উন্নত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সেই সদিচ্ছা বর্তমান সরকারের আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই খাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনারও অন্ত নেই। একজন প্রধানমন্ত্রী কিংবা একজন রেলমন্ত্রীর পক্ষে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া এই অনিয়মত ও অব্যবস্থাপনার জঞ্জাল আর সড়কপথের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রেলসেবা উন্নত ও জনবান্ধব করা খুব সহজ কাজ নয়। সেই কঠিন কাজে সরকার যখন হাত দিয়েছে, তখন এর শেষটাও দেখা দরকার।

কেন নিয়মিত বিরতিতে আমাদের ট্রেনগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে—তার নির্মোহ বিশ্লেষণ ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান প্রয়োজন। গণমাধ্যমের খবর বলছে, গত সাড়ে ৫ বছরে রেলপথে এক হাজারের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩০ জন। এর জন্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও গাফিলতিকেই প্রধানত দায়ী করা হয়।

বেসরকারি সংগঠন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডিব্লিউবিবি) ট্রাস্টের এক গবেষণা বলছে, মুখোমুখি সংঘর্ষ, ট্রেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, লেভেল ক্রসিং, সিগনালিং ত্রুটি, লাইনচ্যুতিসহ নানা কারণে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে ৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ লাইনচ্যুতি। আর লাইনচ্যুতির প্রধান কারণ রেল লাইনে ত্রুটি। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন লাইনে ত্রুটি থাকলেও তা মেরামতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হয় না। আবার অনেক সময় মেরামত করা হলেও সেগুলো ত্রুটিপূর্ণই থেকে যায়। অর্থাৎ ঠিকভাবে কাজ হয় না বা জোড়াতালি দিয়ে কাজ হয়। রেলপথে মানসম্মত পর্যাপ্ত পাথরের স্বল্পতা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

রেল দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বগি সংযোজন। কেননা এর ফলে বগি লাইনচ্যুতির শঙ্কা বেড়ে যায়। আবার বাঁশ দিয়ে রেললাইনের স্লিপার আটকানোর মতো দৃশ্যও দেশবাসী দেখেছে। ফলে এই খাতে যে কী ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা আর অবহেলা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। ফলে একদিনে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় এটি যেমন সত্য, তারও চেয়ে বড় সত্য, ১৭ কোটি লোকের এই দেশে ট্রেনকেই প্রধান গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের নদীপথ ক্রমহ্রাসমান। শীতের দিনে উত্তরের নদীগুলো নৌযান চলাচলের উপযোগেী থাকে না। দখিনের নদীগুলো এখনও সচল থাকলেও মানুষ দ্রুত যাতায়াতের জন্য সড়কের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে বরিশাল অঞ্চলের মানুষও রেলে যাতায়াতের সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে এটি বোঝা যাচ্ছে যে, রেল নিয়ে সরকার আন্তরিক এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কিন্তু সর্ষের ভেতরে ভূত থাকলে ভূত তাড়ানো অসম্ভব। যারা এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, অর্থাৎ ‘ম্যান বাহাইন্ড মেশিন’ ঠিক না হলে কোনো পরিকল্পনাই সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভ নয়। সেইসাথে ক্ষমতার বলয়ের ভেতরে রেলবিরোধী যেসব শক্তি আছে, তাদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রায়ত্ত সেবা খাত হিসেবে রেলকে দ্রুত জনবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার পথে সকল বাধা দূর করতে সরকারকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে—এর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

এইচআর/এমকেএইচ

কেন নিয়মিত বিরতিতে আমাদের ট্রেনগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে—তার নির্মোহ বিশ্লেষণ ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান প্রয়োজন। গণমাধ্যমের খবর বলছে, গত সাড়ে ৫ বছরে রেলপথে এক হাজারের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩০ জন। এর জন্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও গাফিলতিকেই প্রধানত দায়ী করা হয়।