ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:১৮ এএম, ২৬ জুলাই ২০২০

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগেও সাপের কামড়ে প্রায়ই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাড়াতে হবে সচেতনতা ও সাবধানতা।

এবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে কোহিনুর বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারগাড়া (গাছুপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কোহিনূর বেগম একই গ্রামের হবিবর রহমানের স্ত্রী। প্রতিদিনের মতো সকালে মুরগি রাখার ঘর থেকে ডিম সংগ্রহ করতে যান কোহিনুর। এ সময় ঘরের ভেতর হাত দিলে একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। তিনি চিৎকার দেন। পরে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় আট লাখ ৯০ হাজার মানুষকে সাপে কামড়ায়। গবেষকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সকাল ও সন্ধ্যায় সাপে বেশি কামড়ায়।, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এলাকায় সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে কম ঘটে শীতকালে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মে, জুন ও জুলাই- এই তিন মাসে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়।

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বছরে ছয় হাজারের কিছু বেশি মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। মূলত গোখরা (কোবরা) ও কেউটে (ক্রাইট) সাপের কামড়ে তাদের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে কেউটে সাপ বাড়ির আশপাশে বা লাকড়ির মধ্যে থাকে। আর গোখরা সাপ ফসলি জমিতে ও রাস্তাঘাটে থাকে। গোখরা ও কেউটে সাপের বিষক্রিয়ায় পার্থক্য আছে। গোখরার কামড়ে পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো সমস্ত শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়, চোখ বন্ধ হয়ে আসে। আর কেউটে সাপের কামড়ে শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। পাশাপাশি কামড়ের স্থান ও দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বের হয়। তবে বাংলাদেশে দুটি ক্ষেত্রেই একই ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে, এ কথা ঠিক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সাপে কামড়ালে এখনও অনেক মানুষ হাতুড়ে ডাক্তার, ওঝা বা কবিরাজের শরণাপন্ন হয়। এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষকে বোঝানো দরকার সর্পদংশনের আধুনিক চিকিৎসা আছে। সরকারি হাসপাতালে এর ভালো চিকিৎসা হয়, সাপের বিষের ভ্যাকসিনও মজুত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপে কামড়ানো রোগীকে বেশি নড়াচড়া করতে দেয়া যাবে না, দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে নেয়ার পথে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে ২৪ ঘণ্টার আগে ছুটি দেয়া যাবে না।

সাপে কামড়ালে ভ্যাকসিন দিতে হয়। ভ্যাকসিন যেন উপজেলা ও জেলা সদরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ভ্যাকসিন থাকে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চাহিদা পাঠালে সে অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। সিভিল সার্জনকেও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতে সাপের বিষের ভ্যাকসিনসহ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো শৈথিল্য কাম্য নয়।

এইচআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।