সচেতনতা না বাড়লে বাড়বে মৃত্যু

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার যে, পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এটাকে ‘নিয়তি’ বলে বসে থাকলে চলবে না। বরং মৃত্যুর কার্যকারণগুলো ব্যাখ্যা করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে সাঁতার শেখার ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতনতাও বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নইলে বাড়তে থাকবে মৃত্যুর সংখ্যাও।

কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন ও করিমগঞ্জে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশু রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যাবধানে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার জেলার নিকলীতে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই জনসহ তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিকলী উপজেলার জারইতলা ও দামপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

জারইতলা ইউনিয়নের শাহপুর মাইজহাটি গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে শাহীন ওরফে শায়ন (৭) ও তার চাচাতো বোন মনি আক্তার ওফে মুন (৭) বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এক সময় সবার অলক্ষে তারা পুকুরের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে কাঁঠালকান্দি গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে শিশুকন্যা সুমাইয়া দুপুরের দিকে বাড়ির সামনে বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন জেলার মিঠামইন ও করিমগঞ্জে পানিতে ডুবে মারা গেছে আরও দুই শিশু। পুলিশ জানায়, বিকেলে বাড়ির পাশের বিলের পানিতে ডুবে মারা যায় মাহিন (৬) নামে এক শিশু। সে করিমগঞ্জ সদর উপজেলার কিরাটর গৌরারগোপ গ্রামের বাসিনন্দা ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির আলমের ছেলে। এ দিন জেলার হাওর উপজেলার মিঠামইনের গোপদিঘী গ্রামে বাড়ির পাশে খেলা করার সময় বর্ষার পানিতে ডুবে মুক্তা (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে গোপদিঘূ ইউনিয়নের কাসাপুর গ্রামের কবির মিয়ার মেয়ে। একই দিন জেলায় ৫ শিশুর মৃত্যুতে তাদের পরিবারে শোক নেমে আসে।

এ ধরনের শোকাবহ পরিস্থিতি কিছুতেই কাম্য নয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, যা মোট শিশুমৃত্যুর ৪৩ শতাংশ। আর প্রতিদিন গড়ে ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। বলতে গেলে শিশুর অন্যতম ঘাতক এই পানিতে ডুবে মৃত্যু। এই মৃত্যু রোধ করতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে পরিবারকে। শিশুরা জলাধারের কাছে যাতে যেতে না পারে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

এ ব্যাপারে বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতা। গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত শিশুরা সাঁতার শেখার উপযোগী হয়েছে তাদেরকে অবশ্যই সাঁতার শেখাতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় প্রশাসন, এনজিওসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। সাঁতার না জানার কারণেই অধিকাংশ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। শুধু শিশুরাই নয় প্রাপ্তবয়স্কদেরও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশে সাঁতার শেখা বা শেখানোকে একটি অপ্রয়োজনীয় কাজ হিসেবে এখনো মনে করা হয়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিশুরাই আগামী, তাদের রক্ষায় আরো যত্নশীল ও দায়িত্ববান হতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]