সাবধানতার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হয়। এরপর দীর্ঘদিন হয়ে এলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থামছে না। বরং তা গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ছে। আগে মহিলারা কম আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করলেও এখন তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাও যাচ্ছেন করোনায়। এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর হতে হবে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট চার হাজার ৯১৩ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৫৬৭ জন। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৪৭ হাজার ৩৭২ জনে। গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘করোনা শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য অর্থাৎ জীবনের সব কিছুকে ঘিরে রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে করোনার সংক্রমণ আরও প্রলম্বিত হতে পারে আমাদের দেশে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা, করোনাসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে সমন্বয়হীনতা, লোকজনের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা, স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ব্যাপারেও তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করাসহ নানাবিধ কারণ এ জন্য দায়ী।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরনো ভাড়ায় ফিরেছে গণপরিবহন। ‘যত আসন তত যাত্রী’ নীতিমালার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি চলার কথা গণপরিবহনগুলোর। কিন্তু গণপরিবহনে সেটি মানা হচ্ছে না। দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাত্রী এবং ড্রাইভারসহ পরিবহনের লোকজনও মাস্ক পরতে দেখাচ্ছে চরম অনীহা। এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। করোনায় যেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে সেখানে পাশাপাশি সিটে বসে যাওয়া কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সেটি ভেবে দেখতে হবে। রেলসহ গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

এটা সবার জানা যে, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার কোনো সুনির্দিষ্ট পন্থা নেই। ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়েও রয়েছে ধূম্রজাল। এ অবস্থায় প্রতিরোধই হচ্ছে প্রতিকারের উপায়। এজন্য ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরার ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘন ঘন সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে। বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব। আক্রান্তদের সহজে চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সহজলভ্য করতে হবে শনাক্তকরণ। এছাড়া ভাইরাস প্রতিরোধে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই মহামারিকাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।

এইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]