অবরোধ দুর্ভোগ : পাঠক প্রতিক্রিয়া


প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৫

বিরাজমান পরিস্থিতিতে শুধু জনদুর্ভোগ, অহেতুক প্রাণহানি আর সম্পদহানিই বাড়ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী হিসাবে অবরোধকারীদের ক্ষতির পাল্লা ভারি হবে। যদি তারা এরপর ক্ষমতায়ও যায়, এটার ভার তাদের বইতে হবে। কারণ বিরোধী জোট হয়তো নিজেও জানে না অবরোধে তাদের ফায়দা কী হবে। একথা আরও জোর দিয়ে বলছি, কারণ চলমান মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের ভুয়া বিবৃতি আর বিজেপি নেতা অমিত শাহ-খালেদা জিয়ার ফোনালাপের ভুয়ামীতে বিরোধী জোট তথা বিএনপি যে অবস্থায় পড়েছে, তাতে তাদের রাজনৈতিক অপরিপক্কতা ঢেকে রাখার আর সুযোগ নেই। বলা যায় এই অবরোধ শুধু জনদুর্ভোগ নয়, আন্তর্জাতিক ভাবে আমাদের জন্য অসম্মান ডেকে আনলো।
- আহসান কবীর, গণমাধ্যমকর্মী

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। এখানে মুসলিম আইনের শাসন মানা হবে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর তাই তো হচ্ছে! মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন নারী তার স্বামী এবং বাবার সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন। বাংলাদেশে তো তাই হচ্ছে! একজন তার বাবার বদৌলতে রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছেন, অন্যজন তার স্বামীর বদৌলতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন ! বাহ ভালো তো,ভালো না। আজ যে বাবা/ স্বামীর বদৌলতে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সে ক্ষমতায় থাকার কারণ হিসেবে অন্যজন তার অধিকারের জন্য লড়াই করবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। তার অধিকারের জন্য তিনি অবরোধ দেবেন, হরতাল দেবেন- যা খুশি করবেন। তাতে জনগণের কি? রাষ্ট্রে জনণের অধিকার তো কেবল নির্বাচনের দিনের জন্য! আর বাকি দিনগুলো কেবল তাদের একক আধিপত্য থাকবে! তারা যা খুশি করবে! হরতাল অবরোধের মত তাণ্ডব করে মানুষ মারবে, পোড়াবে, কুপাবে যা খুশি করবে! আর এটাই তো এই দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা! যে নেত্রীই আসুক না কেন তারা তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার দিকেই দৃষ্টিপাত করেন। জনস্বার্থে কাজ করা তাদের জন্য লিখিত বা মৌখিক আইন মাত্র। তবে সেটা মানতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আর তারা এই নীতিতেই বিশ্বাসী। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণের এই অবস্থা মেনে নেয়া ছাড়া আর কিছু করার আছে কি? আমরা জনগণ কেবল নাটকের নিষ্ক্রিয় দর্শক মাত্র !
-ফরিয়া মৌ, শিক্ষার্থী

একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের জনগণের সার্বিক সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করা এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। দেশের তরুণ প্রতিনিধি হয়ে এ দেশের রাজনীতি থেকে আমি ইতিবাচক কিছুই শিখতে পারিনি। এই লাগাতার হরতাল/অবরোধ কর্মসূচীতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের উচিত একটু নমনীয় হয়ে তাদের সাথে সমঝোতায় আসা। আমার মতে এই দুটি বৃহত রাজনৈতিক দল দেশের সার্বিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের উচিত দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করা।
-আব্দুল্লাহ আল-মোশরেফ, উন্নয়নকর্মী

দেশটা আমাদের। কারোই এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে দেশের ক্ষতি হয়। দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয় এমন কর্মসূচীও রাজনৈতিক নেতাদের নেওয়া উচিত না। জ্বালাও-পোড়াও করে সরকার পতন করা যায় না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। বর্তমানে অবরোধে জনগণের কোন সমর্থন নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করুন এবং জনগনের জন্য আন্দোলন করুন।
-তারিকুর রহমান খান, শিক্ষার্থী

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।