সরকার চায় সংবিধান সংশোধন, বিরোধীদল সংস্কার- সংসদে মতপার্থক্য

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া ও পরিধি নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব আনলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এসময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ যে সাংবিধানিক চর্চা চলে চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই। সেই চর্চার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি এবং আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন যে আমরা একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি করতে চাই যেটা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আমাদের রুল ২৬৬ অনুসারে সেই কমিটির বিষয়ে আমরা ১২ জনের নাম তালিকা ঠিক করেছি।

তিনি আরও বলেন, যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরকেও রাখা হয়েছে ১২ জনের একটি তালিকায়।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যদি আমি পারসেন্টেজ হিসেবে যাই ২৬ শতাংশ আসে সেখানে আমরা তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি। এখানে ১২ জনের মধ্যে বিএনপি সাতজন দিয়েছে পাঁচজন অন্য দলের থেকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনকে দেওয়া হয় তাহলে এই কমিটি সংক্রান্ত বিষয় আমরা আগামীকাল উপস্থাপন করতে চাই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করার জন্য। আগামীকাল আমরা চাই তাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনের নাম কাল দেন তাহলে আমরা এই কমিটি গঠন করে আমরা সংশোধন সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদ সামনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিরোধীদলের নেতা আইনমন্ত্রী যে কথাটা বললেন যে বিএনপি থেকে সাতজন আর অন্যান্য দল থেকে পাঁচ জন এই ১২ জনের একটা তালিকা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রস্তুত করেছেন। আপনাদের অপোজিশন থেকে পাঁচজনের তালিকা চাচ্ছেন। সুতরাং এই ১৭ জন নিয়ে তারা যে বিশেষ কমিটি করবেন তো দয়া করে যদি আপনি আপনাদের পাঁচজনের তালিকাটা দেন তাহলে হয়তো কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা এগিয়ে যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টা নিয়ে চিফ হুইপ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি যথারীতি সংসদ নেতার সালাম দিয়েই কথা বলেছিলেন। তো আমি তাকে বলেছি যে বিষয়টা আমাদের মধ্যে একটু আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে আমাদের। তা আমরা আলোচনা করে জানাবো। এটা আজই হয়ে যাবে বিষয়েটি এমন হবে না। আর কি এই সেশনটা আমরা এটা মত দিতে পারবো না। কারণ আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল। তাদের যে প্রস্তাব তারা দিয়েছেন সেটাকে আমরা নিলাম শুনলাম কিন্তু আমরা পরে জানাব এখন আমরা কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, স্পিকার আপনার মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নেই আমরা অপেক্ষা করব আমরা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব জুলাই সনদের আলোকে। সুতরাং আমাদের যদি এজন্য অপেক্ষা করতে হয় আমাদের পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে কোনো অসুবিধা হবে না।

এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তাহলে সংসদীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের সদস্য প্রস্তুত আছে এবং বিরোধীদল থেকে পাঁচজনের নাম বা এই সম্পর্কিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে একটা ডিসিশনে আসবে এবং সেজন্য ট্রেজারি বেঞ্চ রেডি রয়েছে।

এমওএস/এমআইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।