নির্লজ্জ বেহায়া কোথাকার : আপেল মাহমুদ


প্রকাশিত: ০৩:৩৯ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৫

স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব ও বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের খেলা নিয়েও জল কম ঘোলা হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ওই খেলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাবিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

এ নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে মন্তব্য করছেন। ভারতের একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে নিয়ে কটূক্তি করেন সাবেক ক্রিকেটার নবজিত সিং সিধু। তবে তার মুখোশ উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেল দেশটিভির অনুষ্ঠান নির্বাহী আপেল মাহমুদ।

২২ মার্চ আপেল মাহমুদ তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন...

বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিয়ে অনেক কথা হইছে, এখনো হচ্ছে। আমিও এ নিয়ে কিছু কথা বলছি। বলাই উচিত। অন্যায় আর কতদিন সহ্য করা যায়। সর্বশেষ ভারতের টিভি চ্যানেল জি-নিউজের একটা অনুষ্ঠানের কিছু কথাবার্তা বাংলায় তুলে দিচ্ছি। আমি হিন্দি কম বুঝি তাই ট্রান্সলেট ভুল হতে পারে, তবে মূল কথা ঠিক আছে আশা করি।

অতিথি ১- এটা একটা ওয়ার্ল্ড কাপ। এটা বাংলাদেশিদের নিশ্বাস জড়িত, তাদের ইজ্জত জড়িত। বাংলাদেশের অধিকার আছে বাজে আম্পায়িংয়ের বিপক্ষে কথা বলার। বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অধিকার আছে আইসিসির কাছে প্রশ্ন করার যে এই বাজে আম্পায়ারিং কেন?

হোস্ট- রোহিতের ওই বলটা নো বল ছিল?

অতিথি ১- না, রোহিতের ওই বলটা নো বল ছিল না।

হোস্ট- তাহলে ওখানে টিভিতে দেখার জন্য থার্ড আম্পায়র ছিল। তাকে কেন জিজ্ঞেস করা হল না?

অতিথি ১- আরে ভাই অামিতো এটা বলে বলেই গলা ফাটাচ্ছি। দেখো আইসিসিকে জাগতে হবে, আইসিসি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে আছে। বাংলাদেশের অধিকার আছে এই বল নিয়ে কথা বলার। আমি বলছি বাংলাদেশ এই ম্যাচ জিততেই পারতো যদি ওই সময় রোহিত শর্মাকে আউট দেয়া হত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে জর্ডানকে আউট দেয়া হয়েছিল যেভাবে। এখানে যদি রোহিত শর্মাকে আউট দেয়া হত তাহলে ভারত ২৬০ রানের মধ্যে আটকে যেত। তখন বাংলাদেশের পুরো চান্স থাকতো। আর তখন বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যেত। যখন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে সে পারবে তখন সবকিছু করা সহজ হয়ে যায়। আমার মনে হয় ওই ডিসমিসালটা যেটাতে দেখি রোহিত সেটা স্লো মোশনে দেখলে বোঝা যায় কত দ্রুত সিদ্ধান্ত ...

হোস্ট- তখন আসলে রোহিতের রিয়্যাকশনটা এমন ছিল যেন

অতিথি ২- একদম তার রিয়্যাকশনটা ছিল এমন যেন বলটা আমার কোমরের উপরে আসছে আর আমি সেটা খেলতে পারছিনা তাই ক্যাচ উঠে গেছে এখন এটাকে নো বল দিতেই হবে। না দিয়ে উপায় নেই। আম্পায়ার তুমি সিগন্যাল দিয়ে দাও এটা নো বল।

হোস্ট- এটা অভিনয় ছিল। কিন্তু ওখানে তো আম্পায়ার ছিল? আম্পায়ার এটা ভুল করছে।

অতিথি ১- আরে ভাই দুধকে দুধ আর পানিকে পানি কে বলবে? ওখানে আম্পায়াররা কেন আছে? আম্পায়ারেরাই তো বলবে। উপরে থার্ড আম্পায়ার যিনি বসে আছেন তিনি হোলিডেতে ছুটি কাটাতে আসেননি, তাকে কাজে লাগাও। তাকে স্রেফ ফোন করে বলে দিলেই হতো। তিন সেকেন্ডে সব ক্লিয়ার হয়ে যেত। ফোন করে শুধু বলতো আমরা এটা বুঝতে পারছিনা, আপনি টিভিতে দেখে সঠিক সিদ্ধান্তটি দিন, ব্যস। এটা হয়তো আমাদের বিপক্ষে যেত কিন্তু দেখুন ফেয়ার জাস্টিস, অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

আমি এই অংশটা তুলে দিলাম তার কারণ হচ্ছে এই কথোপকথনের `অতিথি ১` এর বক্তব্যগুলো যার তার নাম নবজিত সিং সিধু। হ্যাঁ সেই সিধু যে সারাজীবন বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে আসছে। না, আমি আজকে সিধুর প্রশংসা করবোনা। সিধুর মত নোংরা নর্দমার কিটরা কখনোই প্রশংসার দাবি রাখে না। আমি শুধু এতটুকু বলবো যে কত বড় অন্যায় করা হলে সিধুর মত পিওর ভারতের দালালরাও এই খেলার জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে!

হে অন্যায়কারী ভারত আর কতদিন মিথ্যা অহম নিয়ে বেঁচে থাকবে, নির্লজ্জ বেহায়া কোথাকার।

বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।