‘স্কুল জীবন থেকেই আমি কিন্তু সাহিত্য চর্চা করতাম’

মুনতাসীর মামুন
মুনতাসীর মামুন মুনতাসীর মামুন
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ২২ মে ২০২২

গত চার দশকে যখনই লন্ডন গেছি তখনই আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমার বাবার সঙ্গে চাকরি করেছেন। আমার বড় চাচা প্রয়াত বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কৈশোরের বন্ধু। আমাকে দেখেছেন জন্ম থেকেই। সুতরাং, আমি তাঁর স্নেহের পাত্র। কিন্তু তাঁর গুণেই আমাদের সম্পর্কটা হয়ে গেছে বন্ধুর মতো।

আমি অনেকদিন তাঁকে বলেছি, একটি স্মৃতিকাহিনি লেখার জন্য। এর অনেকটাই তিনি লিখেছেন। প্রকাশিতও হয়েছে কাগজে। এসব মিলিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করা এখনও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

২০০১ সালের এপ্রিলে লন্ডনে গিয়েছিলাম কয়েকদিনের জন্য। তখন ঠিক করি তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেব। প্রথাগত সাক্ষাৎকার নয়। আমাদের সংস্কৃতির আন্দোলনকে সামনে রেখে পঞ্চাশ দশকের কথা জানতে চাইব। অন্য কথায় এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসের উপাদান।

সময়ের টানাটানি আমাদের দুজনেরই ছিল। তবে আমার অনুরোধ তিনি উপেক্ষা করেননি। ২৮ এপ্রিল থেকে ৩১ এপ্রিল (২০০১) এই তিন ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তারই অংশ এখানে প্রকাশিত হলো। (ক্যাসেট থেকে অনুলিখন করেছেন জামালউদ্দিন ও শরীফা বুলবুল) ২৮ এপ্রিল শনিবার ২০০১ আজকের আলোচনায় আমরা প্রধানত জনাব চৌধুরীর কাছে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে জানতে চাইব।

একটি হচ্ছে পঞ্চাশের সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন, তার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির আন্দোলন, তাঁর সেই বিখ্যাত গানের রচনাকাল, এরপর সাংবাদিক হিসেবে তিনি ’৭১ সাল পর্যন্ত যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেটি, তৃতীয় পর্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ ছিল দীর্ঘকাল সে বিষয়ে আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করব।

মুনতাসীর মামুন: ১৯৫০ সালে আপনি ঢাকায় কলেজ জীবন শুরু করলেন তারপর বিভিন্ন বিশেষ করে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লেন, এ বিষয় দিয়ে আমাদের আলোচনা শুরু করতে পারি।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী: ১৯৫০ সালে আমি ম্যাট্রিক পাস করি বরিশালের স্কুল থেকে। তখন অনেকেই বলেছিলেন যে, বরিশালের বিএম কলেজে পড়ো। কিন্তু আমার ইচ্ছা হলো যে আমি ঢাকায় চলে যাই। সেই স্কুলজীবন থেকেই আমি কিন্তু সাহিত্য চর্চা করতাম। কবিতা লিখতাম, গল্প লিখতাম প্রধানত। তার উপরে বরিশালে তখন নকিব নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বেরিয়েছিল, তার সম্পাদক নূর আহমদ ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, কিন্তু পরিচিতি ছিল না। উনি ঠিক পাকিস্তানের ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বে বিশ্বাস করতেন না। তার আশ্রয়ে এবং প্রভাবে সাংবাদিকতাও কিছুটা শুরু করেছি। এটা চল্লিশের দশকের শেষ দিকে। অর্থাৎ পাকিস্তান হওয়ার সূচনা কালের কথা।

১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে যখন পাস করলাম তখন সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে যাতে প্রবেশ করতে পারি সেই সুযোগের জন্য এবং কিছুটা আর্থিক ব্যাপারও ছিল যে লেখাপড়া কীভাবে চালাব হয়তো ঢাকায় গেলে নতুন পত্র-পত্রিকা বেরিয়েছে, তাতে চাকরি নিয়ে কিছু আয় উপার্জন করতে পারব। সেই ভরসায় ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় সৌভাগ্যবশত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আমার কিছুটা আত্মীয়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে আমার সতীর্থ হিসেবে যাদের পাই তাদের অনেকেই এখন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। কেউ সাহিত্যিক, কেউ সাংবাদিক, কেউ কূটনীতিক, কেউ সরকারি অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।

তাদের মধ্যে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, এটিএম শামসুল হক, আবেদ হোসেন, দাউদ খান মজলিশ, কবি মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ, জহির রায়হান এরকম আরও অনেকের নাম করতে পারি। ম্যাট্রিক পাস করে ১৯৫০ সালে ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলাম, আরেকটি ঘটনা ঘটে- ম্যাট্রিক পাস করার পরে আমি ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলাম- আমার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে। তখন এসেই শুনি যে, কায়েতটুলীতে একটা ফ্রেন্ডস সোসাইটি ছিল, কর্মকর্তা ছিলেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীসহ কিছু প্রগতিমনা শিক্ষক এবং সাহিত্যিক।

শুনতে পেলাম সেখানে বুদ্ধদেব বসু আসছেন কলকাতা থেকে। বুদ্ধদেব বসুকে দেখার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহ এবং সেই মিটিংয়ে গেলাম। বুদ্ধদেব বসু বসে আছেন এবং তাঁকে ঘিরে ক’জন সাহিত্যিক বসা- এই প্রথম আমার পরিচয় হলো আলাউদ্দিন আল আজাদ, হাসান হাফিজুর রহমান, বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, কবি শামসুর রাহমান, কবি আব্দুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী- অবশ্য আশরাফ সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার আগে পরিচয় হয়েছিল। এ রকম ঢাকার তখনকার তরুণ বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কবিদের সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো।

সেদিন এক ঘটনা ঘটল- বুদ্ধদেব বসুকে আশরাফ সিদ্দিকী জিজ্ঞাসা করে বসলেন যে, আকাশে যদি চাঁদ ওঠে আর আমি ক্ষুধার্থ থাকি কবি হিসেবে তাহলে কী করব? চাঁদের আলোয় সুধা পান করবো- না কোয়ালিটির জন্য চেষ্টা করবো? বুদ্ধদেব বসু খুব স্যাটায়ারিক্যালি জবাব দিলেন- তোমার যেটা খুশি। মানে তিনি এ ধরনের নিচু মানের প্রশ্ন আশা করেননি একজন কবির কাছ থেকে। এটা নিয়ে বেশ হাসাহাসি হয়েছিল, তাতে আশরাফ সিদ্দিকী ক্ষুব্ধ হন।

হাসাহাসির দলে আমিও ছিলাম, যদিও আমি তখন মাত্র ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়েছি। কিন্তু এই প্রশ্নটা আমার কাছে খুব উঁচুমানের সাহিত্যিক প্রশ্ন মনে হয়নি। তো সেই সভায় হাসতে গিয়ে আমি ওদের গোত্রভুক্ত হয়ে গেলাম। হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বোরহান খুব সুদর্শন তরুণ তখন। বুদ্ধদেব বসু বললেন যে, আমার একটি চিঠি আমার এক বন্ধুকে দিতে হবে তোমরা কেউ কী আমাকে দয়া করে সাহায্য করবে চিঠিটা পৌঁছে দিতে? শামসুর রাহমান খুব সাগ্রহে দায়িত্ব নিলেন। নেওয়ার পরে বুদ্ধদেব বসুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমাদের পারস্পরিক পরিচয় হলো।

আলাউদ্দিন আল আজাদের সঙ্গে আগেই আমার পত্রালাপ ছিল। এখানে দেখলাম যে, একমাত্র একটি লোকই আমার সমবয়সী এবং ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় এসেছে- সে হলো বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। সুতরাং তাঁর সঙ্গেই আমার সখ্যটা তাড়াতাড়ি গড়ে উঠল। আমরা একসঙ্গে বুদ্ধদেব বসুর চিঠি নিয়ে গেলাম, বোধহয় লায়ন্স সিনেমা হলের গলি পেরিয়ে কোথাও। সেই চিঠি তাঁর বন্ধুকে দিয়ে আমরা একটা রেস্টুরেন্টে খেতে বসলাম হাসান হাফিজুর রহমানের সৌজন্যে এবং সেখানে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় হলো এবং দেখলাম যে আমরা সবাই মোটামুটিভাবে সাম্যবাদ বিশ্বাস করি। বুঝি আর না বুঝি যেভাবেই হোক সাম্যবাদের দিকে আমরা আকৃষ্ট। আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘জেগে আছি’ গল্পগ্রন্থ তখন বেরিয়েছে।

সে আমাদের কাছে একজন হিরোর মতো। হাসানকে আমি ভালো করে চিনতাম না, শামসুর রাহমান বললেন যে, আমার একটি কবিতা পাঠ করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক সময়ের নাম করা সিএসপি অফিসার বোধহয় অবসর নিয়েছেন, উনি সাহিত্যমনা ছিলেন। আমি তার নামটা এখন স্মরণ করতে পারছি না। তিনি শামসুর রাহমানের একটি কবিতা পাঠ করলেন। ‘কোনো এক নিমগ্ন শহরকে’, যে কবিতার ভিতরে শামসুর রাহমান প্রথম গণসম্পৃক্ততা দেখান।

এর আগে চাঁদ ফুল পাখি নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছি মানুষের কথা কখনও ভাবিনি। শামসুর রাহমানের কবিতাটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। সুরেলা কবি এবং বাস্তবতা আছে তাঁর ভেতরে। এত ভালোলেগে ছিল যে, গায়ে পড়ে আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ জমালাম। হাসান, শামসুর রাহমান, আলাউদ্দীন আল আজাদ এঁরা সবাই আমাদের ওপরের। আমরা মাত্র ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি- আর তাঁরা তখন ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করছেন। শামসুর রাহমানও ঢাকা কলেজে পড়তেন কি না আমার ঠিক মনে নেই। আলাউদ্দীন আল আজাদ সম্ভবত ঢাকা কলেজে পড়তেন। তিনি তখন কলেজের ছাত্র, আমরা ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি। আমি আর বোরহান, একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠল।

আমার বেশি বন্ধুত্ব গড়ে উঠল বোরহানের সঙ্গে সমবয়সী বিধায় আর একটা সাহিত্যিক বন্ধুত্ব গড়ে উঠল শামসুর রাহমান এবং আলাউদ্দিন আল আজাদের সঙ্গে। তারপর আমি ঢাকা থেকে বরিশালে ফিরে গেছি আমার গ্রামে এবং জেলা শহরে। সেখানে থাকাকালেই আলাউদ্দিন আল আজাদের সঙ্গে আমার একটা পেন ফ্রেন্ডশিপের মতো হয়। আমরা তখন সাহিত্যে কী করে সোশ্যালিস্ট রিয়ালিজম বা সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা আনা যায় সেসব বড় বড় কথা ভাবতাম। তখন তো দেশে গণসাহিত্যের খুব জোয়ার। সবাই গ্রামকেন্দ্রিক জীবন, গ্রামীণ চরিত্র নিয়ে গল্প লেখায় ব্যস্ত। তখন সাংঘাতিক জনপ্রিয়তা ছিল তিনজন লেখকের উপন্যাসের। আজাদ নবাগত, তার আগে শামসুদ্দীন আবুল কালাম, তাঁর ‘তাহেরবানু’ গল্পগ্রন্থ সাংঘাতিক নাম করেছে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গল্পগ্রন্থ ‘নয়নতারা’র বিশেষ করে একটি গল্প ‘বক্রচাঁদের খণ্ডত্রয়’ সাংঘাতিক নাম করেছে, শওকত ওসমানের ‘বনি আদম’ উপন্যাস খুব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা গোগ্রাসে ওনার লেখা পড়ি, বিশেষ করে শামসুদ্দীন আবুল কালাম আমাদের খুব প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁরা সবাই গ্রাম জীবন নিয়ে লিখতেন। তাতে আমার এখন যেটা মনে হয়, তখন বাঙালির মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে ওঠেনি। ঢাকা শহরে তখন ফুটপাত যে কোথায় ছিল আমার এখন মনে পড়ে না, তারপর দুটো মাত্র বাস ছিল। চলার পথে আর পাথেয় দুটো বাস। সদরঘাট থেকে বেরিয়ে সলিমুল্লা হলের কোণা দিয়ে বাঁয়ে আজাদ অফিসের সামনে দিয়ে চকবাজার হয়ে আবার সদরঘাট এই হলো যাওয়া আসার পরিধি।

এখন যেখানে নিউমার্কেট সেখানে কিন্তু এক সময় ভয়ে আমরা যেতাম না, ১৯৫০ সালেও। এখন যেখানে সূর্যসেন হল এটা তখন ছাপড়া-ইকবাল হল নাম নিয়ে কতগুলো ছাপড়া ঘর। পেছনে ছিল একটা বিরাট দিঘির মতো এবং চারদিকে জঙ্গল, তারপরই নীলক্ষেত, যেখানে প্রফেসারদের কোয়ার্টার ছিল। নীলক্ষেতেও বিশাল বেড়ার ঘর। যেখানে সেক্রেটারিয়েটের কর্মচারীরা থাকতো। কারণ তখন তাদের কোনো থাকার বাসস্থান ছিল না। আজিমপুর কলোনি তখন মাত্র গড়ে উঠেছে। ঢাকা একেবারেই ছোট শহর। আমার মনে আছে, সদরঘাটে আশুতোষ লাইব্রেরি ছিল। যেখান থেকে শিশুসাথী পত্রিকা বেরুতো।

কলকাতা থেকে বেরুতো কিন্তু ব্রাঞ্চ অফিস ছিল ঢাকায়। তারপরে কোয়ার্টারের ভিতর ছিল বৃন্দাবন অ্যান্ড সন্স, এটাতে অবজারভার অফিস হয়েছিল পরে। তার বাইরে বেরিয়েই আবু জাফর শামসুদ্দিন যেখানে কিতাব ঘর বা কিতাব মঞ্জিল নামে লাইব্রেরি খুলেছিলেন। ওটাতে ছিল বৃন্দাবন ধর অ্যান্ড সন্স নামকরা সেই সাহিত্য প্রকাশনা। এসব পাকিস্তান হওয়ার পরেও ১৯৫০ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগ পর্যন্ত ছিল। তারপর হাটখোলায় ‘যুগান্তর’ ও ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকা অফিস। যেটাতে ইউএসআইএস-এর লাইব্রেরি হয়।

এরকম স্বামীবাগে ছিল শক্তি ঔষধালয়ের বিরাট কারখানা। রিয়েলি ঢাকা শহরটা ছিল একটা প্রাচীন আভিজাত্য গর্বিত শহর। ঘোড়ার গাড়ি, আদিবাসীদের ঠাট্টাতামাশা- সবমিলিয়ে ঢাকা শহরের কিন্তু একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য ছিল। আগা বাখরখানি রুটি, চকবাজারের পনির, হোসেনীদালান, তারা মসজিদ এসব আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতাম। আমি যখন এসে ভর্তি হই তখন ছিলাম ছাত্রাবাস হল ‘বান্ধব কুটির’-এ। এই বান্ধব কুটির আরমানীটোলা ময়দানে, যেখান থেকে ‘বান্ধব’ পত্রিকা বেরুতো, নামকরা সেই বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক কালী প্রসন্ন ঘোষের বাড়ি- বিরাট তিনতলা বাড়ি।

আমার মনে আছে সেখানে আমার রুম নম্বর টুয়েলভ। আর্মেনিটোলা ময়দানটা পার হয়ে ট্রেনিং কলেজ রোড দিয়ে ভিতরে বেগমবাজারে গেলে, বোরহান ওইখানে নুরপুর ভিলায় থাকে। ওখানে তার সিট। দশ মিনিটে যাতায়াত করা যায়। আমাদের একসঙ্গে চলাফেরা, ওঠাবসা। আমি গল্প লিখলেই তাকে শোনাই, সে গল্প লিখলে আমাকে শোনায়। এর মাঝখানে হোস্টেলে সিট পাওয়ার আগে কিছুদিন ইকবাল হলে ছিলাম। যেটা এখন জহুরুল হক হল। যেখানে ছাপড়া ছিল।

ইকবাল হলে আবদুল খালেক খান থাকতেন, যিনি দৈনিক বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন। তিনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখতেন। তার রুমে গিয়ে থাকতাম। তখন ঢাকা কলেজের হোস্টেলে সিট হয়নি। এরপর আরমানিটোলা বান্ধব কুটিরে গেলাম। এর মাঝে হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, শামসুর রাহমান এসে জুটলেন, নিত্যদিনের বৈঠক শুরু হলো, আজ এখানে, কাল ওখানে। আমাদের কারও পয়সা নেই। হাসান কী করে, কী করে যেন পয়সা জোগাড় করতো কোনো দিন আট আনা, কোনোদিন এক টাকা।

তা দিয়ে কৌশল করে চা-পানি খাওয়াতেন সকলকে। আমরাও খেতাম। এভাবেই চলছিল। আস্তে আস্তে আমাদের মাঝে মতান্তর দেখা দেয়। হাসান ছিলেন কট্টর, মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত, আলাউদ্দিন আল আজাদও তাই, শামসুর রাহমান অতটা রাজনৈতিক মনের নন, তাঁর ছিল বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ কাব্য বলয়ের দিকে নজর। আর হাসানদের ছিল সুকান্ত, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো পদাতিক কবি গোষ্ঠীর দিকে। ফলে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকলেও একটা সূক্ষ্ম মানসিক বিভেদ ছিল।

এক্ষেত্রে আমি শামসুর রাহমানের দিকে ছিলাম হাসানদের দিকে ছিলাম না। বোরহান লেখক হিসেবে ছিল আমাদের মাঝে, রাজনীতিতে ছিল হাসানদের দিকে, হাসানের সাথে তার গভীর বন্ধুতা ছিল। এই রকম দোটানার ভিতরে যেমন একদিকে বন্ধুতা আরেক দিকে রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক সূক্ষ্ম মতান্তর ছিল, ঠিক বড় মতান্তর বলবো না।

ওইদিক থেকে শামসুর রাহমানকে আমি সবসময় সমর্থন করেছি, বোরহান কিছুটা করেছে হাসানকে। হাসান আর শামসুর রাহমানের বন্ধুত্ব একেবারে নিটোল। তখন যে নতুন সাহিত্য আন্দোলন শুরু হয় কবিতা দিয়ে তার নাম ছিল নতুন সাহিত্য। এ নামে একটি বই বের হয়-এর সম্পাদক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী আর আব্দুর রশীদ খান।

মুনতাসীর মামুন: বইটার নাম কি নতুন কবিতা?

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী: সরি, নতুন কবিতা।

মুনতাসীর মামুন: এখানে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, আপনি তো আপনাদের লেখালেখির কথা বলছেন, কিন্তু এ প্রসঙ্গে যদি বলেন যে লেখাগুলো কোথায় ছাপানো হতো- কারা ছাপতেন বা পাঠক সংখ্যা কী রকম ছিল বা প্রকাশিত লেখার সঙ্গে আগে যারা লিখতেন তাদের কোনো রকম পার্থক্য ধরা যাচ্ছিল কি না কারণ, আপনি তো হঠাৎ করে বলছেন যে, নতুন কবিতা শুরু হলো- এই পটভূমিকা যদি একটু বলেন তাহলে আরও সুবিধা হবে।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী: আমি সেই প্রসঙ্গে আসছি। নতুন কবিতা বেরুল, আব্দুর রশীদ খান আর আশরাফ সিদ্দিকী সম্পাদক, মানে পুরোনোদের ভেতর থেকে ওরা দুজনই ছিলেন। আর ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, তিনি অবশ্য মননে এবং চিন্তাধারায় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আমাদের গোত্রীয় ছিলেন। আশরাফ সিদ্দিকী, আব্দুর রশিদ খান ততটা ছিলেন না। কিন্তু তৎসত্ত্বেও যেহেতু রাহমানের তখন প্রতিষ্ঠা হয়নি, সেজন্য আমার মনে হয় কিছুটা বাণিজ্যিক বিবেচনায় তাদের নাম সম্পাদক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এবং এই কবিতার সর্বকনিষ্ঠ কবি ছিলেন বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। নতুন কবিতা এবং নতুন কবিতা কেন হলো সে ক্ষেত্রে পটভূমিকার কথা আসে।

পাকিস্তান হওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবে সাহিত্যিক নেতৃত্বটা চলে যায় আজাদ গ্রুপের হাতে। তখন তারা পাকিস্তানের দিকে। সেই গ্রুপে ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দিন, মুজিবুর রহমান খাঁ, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ আলী আশরাফ, মোফাখখারুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, তালিম হোসেন এঁরা বিরাট গ্রুপ, যারা কলকাতা থেকে এলেন আর কি, এঁরা পাকিস্তানপন্থি, ইসলামী রেনেসাঁয় বিশ্বাস করেন, এদের ভেতরে একটা পার্থক্য ছিল আবার।

যেমন- মুজিবুর রহমান খাঁ ও অন্যরা। আবার ফররুখ আহমদ ছিলেন গ্রুপের বিদ্রোহী। গ্রুপ মওলানা আকরাম খাঁকে দেখতে পারতেন না, আজাদ গ্রুপকে দেখতে পারতেন না। কিন্তু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এদের একটা মিল ছিল। কিন্তু আদর্শের ক্ষেত্রে একটা বিরাট অমিল ছিল, ফররুখ আহমদ, মওলানা আকরাম খাঁকে ঠাট্টা করে কবিতা লিখতেন।

এই গ্রুপের বিরুদ্ধে একটা সচেতন গ্রুপ তৈরি করার কথা প্রথমে বোধোদয় হয়নি। সেক্ষেত্রে একটা বিদ্রোহী গ্রুপ দাঁড়াল। সেটার নেতৃত্ব কিছুটা দিয়েছেন তখনকার সময়ে মুস্তফা নুরউল ইসলাম কিছুটা ছিল জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মাহাবুব জামান জাহেদী, ফজলে লোহানী, তাসিকুল আলম খাঁ ও সবুজ বলে আরেকজন। তখন পাইওনিয়ার প্রেস ছিল রমাকান্ত নন্দী লেনে (পাটুয়াটুলীতে)।

পাইওনিয়ার প্রেসে জড়ো হয়ে একটা কাগজ বের করত (অগত্যা)। অন্যদিকে চিটাগাংয়ে মাহাবুবউল আলম চৌধুরী ‘সীমান্ত’ নামে একটা কাগজ বের করতেন। দুটোই সাহিত্য মাসিক। এই দুটো কাগজই আমার মনে হয় সাহিত্যে একটা বিদ্রোহের নিশান তোলে এই প্রতিষ্ঠিত পুরো স্টাবলিশম্যান্ট সাহিত্যের বিরুদ্ধে। ইসলামী রেনেসাঁর বিরুদ্ধে এরা তখন লোকায়ত সংস্কৃতির পক্ষে।

এদিক থেকে ‘অগত্যা’ ছিল অনেকটা ব্যঙ্গ রসাত্মক পত্রিকা, আর সিরিয়াস সাহিত্য পত্রিকা ছিল ‘সীমান্ত’। সীমান্ত উচ্চাঙ্গের ছিল। ওই সময় এত উচ্চাঙ্গের কাগজ বের করা যায় তা ধারণা ছিল না। ওই কাগজে অন্নদাশঙ্কর রায়ও লিখেছেন। এরপর আরেকটি কাগজ বের হলো সেটি ছোট পোস্টকার্ড সাইজ কিংবা একটু বড় নাম-‘চন্দ্রবিন্দু’। এই কাগজটা আরেকটা গ্রুপ বের করল, আবদুল গনি হাজারী, সরদার জয়েন উদ্দিন, আর্টিস্ট কামরুল হাসান।

কামরুল হাসান অলংকরণ করতেন পোস্টকার্ড থেকে একটু বড় সেই চন্দ্রবিন্দু পত্রিকাটির। পুরো স্টাবলিশম্যান্ট গ্রুপ, মানে ইসলামী রেনেসাঁ গ্রুপ যখন দেখল এ রকম ভাবে একটা বিদ্রোহী নতুন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে তখন তারা বিরাট একটা পত্রিকা বের করলেন।

পত্রিকাটার একটা সংখ্যা বের হয়েছিল। মাসিক সংখ্যাটা উদ্বোধনী সংখ্যা, নাম নয়া সড়ক, সম্পাদক ছিলেন ইসহাক এবং সেই পত্রিকায় লোকায়ত সাহিত্যে যারা বিশ্বাস করেন সেই গ্রুপের একজন গিয়ে জয়েন করলেন। তিনি হচ্ছেন শামসুদ্দিন আবুল কালাম। কেন গেলেন তা আমার জানা নেই। তিনি সবচেয়ে প্রগ্রেসিভ লোক ছিলেন।

তিনি বিপ্লবী সোশ্যালিস্ট পার্টির সাথে জড়িত ছিলেন এক সময়। তিনি ‘কাকলী মুখর’ নামক একটা উপন্যাস লিখেছিলেন যার জন্য পাকিস্তান গভর্নমেন্ট কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশংকায় উনি তা উইথড্র করে নিলেন। এবং ওই বইটা নিয়ে বহু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বোধহয় জিন্নারও খুব সমালোচনা ছিল। কিন্তু তিনি কী করে ওই গ্রুপে চলে গেলেন এটা আমাকে খুব দুঃখ দিয়েছিল।

আরেকজনও গেলেন বিদ্রোহী গ্রুপ থেকে- তিনি হলেন বেনজির আহমদ। খুবই বিপ্লবী ছিলেন এককালে। টেরোরিস্ট মুভমেন্টেও ছিলেন। এই নয়া সড়ক নিয়ে ফররুখ প্রথম অ্যাটাক করেন প্রগতিশীল গ্রুপকে। নাম নিয়েছিলেন তিনি হায়াত দারাজ খান পাকিস্তান। এই নাম নিয়ে খুব অ্যাটাক শুরু করলেন। আমাদের সঙ্গে অধ্যাপক অজিত গুহ ছিলেন, তাকে উনি অযোধ্যা গুহ লিখতেন। নানাভাবে এরা ভারতের ‘চর’ এসব নানা রকম কথাবার্তা এদের বিরুদ্ধে ছিল। প্রগতিশীল গ্রুপে এ সময় আরেকজন যোগ দিলেন, জেল থেকে বেরিয়ে মুনীর চৌধুরী। তাঁর শক্তিশালী নাট্য সাহিত্য নিয়ে তিনি এগিয়ে আসলেন।

এভাবে এখানে বিদ্রোহী তৈরি হলো, এর মাঝে আরও একজন আসলেন আরও প্রোস্টাবলিশম্যান্ট সাহিত্যের ধারা নিয়ে। তিনি হলেন কবি গোলাম মোস্তফা। এই গোলাম মোস্তফা একটা পত্রিকা বের করলেন। পত্রিকাটির নাম মাসিক ‘নওবাহার’। তাঁর স্ত্রী এর সম্পাদিকা।

এই কাগজে তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্রনাথকে গালি দেওয়া রবীন্দ্রনাথকে ততটা নয়- নজরুল ইসলামকে ভারতীয় অনৈসলামিক কবি প্রমাণ করা এবং দাবি করা। বিভিন্ন লোকদের দিয়ে প্রবন্ধ লেখাতেন। তারা দাবি করতেন গোলাম মোস্তফা হচ্ছে পুরো পাকিস্তানের জাতীয় কবি। দিনের পর দিন নজরুলের বিরুদ্ধে আর্টিকেল বের হতো, এবং যারা পাকিস্তানবাদে বিশ্বাস করে না বলেই সব নতুন গ্রুপের কবিদের আদ্যশ্রাদ্ধ করা হতো।

এই ক্ষেত্রে অগত্যাটা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। গোলাম মোস্তফাকে টোটালি ক্রাশ করার ব্যাপারে এই কাগজটি প্রচণ্ড ভূমিকা পালন করেছে, শুধু গোলাম মোস্তফা নয়, মওলানা আকরাম খাঁ, সৈয়দ আলী আহসানকে ক্রাশ করার ব্যাপারে, তাতে কিছু কিছু অশ্লীলতাও থাকতো। যেমন- অগত্যার প্রশ্নোত্তর বিভাগ ছিল একটা। তাতে বলা হয়েছে, আপনারা গোলাম মোস্তফাকে কী মনে করেন? জবাব- সেক্সপিয়ার ইংরেজিতে আছে এবং ওটা বাংলায় দেয়ার-পেয়ার। ঢাকায় কী কী পাওয়া যায়? বাকরখানি রুটি, চকবাজারের পনির এবং মওলানা আকরাম খাঁ হা-হা-হা। আবার সৈয়দ আলী আহসানকে কী করা যায়? তার শাস্তি কি হইতে পারে? মাথার উপরে সুপারি রাখিয়া কাষ্ঠ পাদুকা হানা।

তারপর নওবাহার কী? ওই পত্রিকাটার এডিটর ছিলেন গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন- উত্তর, মাহফুজা খাতুনের মাসিক। তারপর পাকিস্তানের বাংলা জবান কী হইবে? সেটা আদর্শলিপিতে যে ছিল সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সেটাকে করা হলো ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি হররোজ আমি যেন আচ্ছা হয়ে চলি, হুকুম করেন যাহা মুরুব্বিয়ানে’- এই করে অগত্যা ওদেরকে একেবারে তুলোধুনো করে। প্রতি সংখ্যায় কখনও গোলাম মোস্তফা কখনও মওলানা আকরাম খাঁ কখনও ফররুখ আহমদ এভাবে এদের তুলোধুনো করা হতো। ফজলে লোহানী পরবর্তীকালে অবশ্য স্টাবলিশমেন্টের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

কিন্তু ওই সময়টায় তাঁর যে রোল এটা একেবারে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তারপর এই কাগজে এসে হাত মিলালেন বা লেখার জন্য আলাউদ্দীন আল আজাদ, মাহবুব জামাল জাহেদী, মুস্তফা নুরুল ইসলাম, আর একজন মারা গেছেন, শামসুর রাহমান। শামসুর রাহমানের কবিতা, আলাউদ্দীন আল আজাদের প্রচুর গল্প মানে বিদ্রোহী গল্প, গণসাহিত্য এবং তৎকালীন সুরিয়ালিস্ট রিয়ালিজমের গল্প, এগুলো তখন একমাত্র অগত্যা পত্রিকায়ই ছাপা হতো। কোনো প্রোস্টাবলিশম্যান্ট কাগজ যেমন- ‘মাহে নও’। মোহাম্মদী, নও বাহারে, এদের কারও লেখা ছাপা হতো না। এর মাঝখানে মুস্তফা নুরুল ইসলাম একটি কলাম শুরু করেছিলেন।

এখন মুস্তফা নুরউল ইসলামের লেখা পড়ে আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে যে ওই ধরনের বলিষ্ঠ কলাম এই লোকের হাত দিয়ে বেরিয়েছিল। তাঁর নাম ছিল ‘ভান্টু উবাচ’। এবং আমি মাঝে মাঝে বলি যে কলামগুলো সংগ্রহ করে আবারও ছাপানো উচিত। ওইগুলো এখনও আমাদের সমাজের উপকারে আসবে...। এর পেছনে শক্তি জোগাতেন যে লোকটি সে লোকটি হচ্ছেন অজিত কুমার গুহ। এজন্য অজিত কুমার গুহকে কমিউনিস্ট ভারতের চর বলা হয়েছে। লাঞ্ছিত করা হয়েছে বহুবার তাকে, অপমান করা হয়েছে, এরপরে রবীন্দ্র বিরোধিতা।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের কবি নন এবং জগন্নাথ কলেজে একটা মিটিং হয়, সৈয়দ আলী আহসান সেখানে বললেন যে রবীন্দ্র ঐতিহ্যের কাছে আমাদের কোনো ঋণ নেই।

[চলবে…]

এইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]