ছবিতে সরস্বতী পূজার প্রস্তুতি
শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে যখন ঢাকার আকাশে রোদের আভাস, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল চত্বর যেন অন্য এক আবেশে ডুবে যায়। প্রতিবছরের মতো এবারও ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার পালিত হতে যাচ্ছে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। সেই উপলক্ষে দিন কয়েক আগেই জগন্নাথ হলের মাঠে শুরু হয়েছে ব্যস্ত প্রস্তুতি। কেউ বাঁশ কাঁধে নিয়ে ছুটছেন, কেউ রঙ মেশাচ্ছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তের নকশা আঁকায় ব্যস্ত। ছবি: মাহবুব আলম
-
বাঁশের খাঁচা, রঙিন কাপড় আর কাঁচা মাটির গন্ধে সেখানে তৈরি হচ্ছে বিদ্যার আরাধনার মঞ্চ। কেউ হাতে তুলছেন তুলি, কেউ মাটি ছুঁয়ে দিচ্ছেন আকার, আবার কেউ স্বপ্ন আঁকছেন মণ্ডপের নকশায়।
-
প্রতিবছরের মতো এবারও সরস্বতী পূজাকে ঘিরে জগন্নাথ হল যেন রূপ নিচ্ছে মাটি, রঙ আর শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত স্বপ্নে গড়া এক উৎসবে। যেখানে ধর্মীয় আচার ছাড়িয়ে মিলেমিশে আছে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা আর ক্যাম্পাস জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য।
-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হল জগন্নাথ হল বরাবরই সরস্বতী পূজাকে ঘিরে এক আলাদা পরিচয়ের বাহক। এখানে সরস্বতী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সম্মিলিত উদ্যোগ আর সাংস্কৃতিক চর্চার এক জীবন্ত উদাহরণ।
-
জগন্নাথ হলের খোলা মাঠ এখন যেন এক অস্থায়ী কর্মশালা। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে পূজা মণ্ডপ তৈরিতে নেমেছেন।
-
কোথাও বাঁশ আর কাপড়ের ফ্রেম দাঁড়িয়ে গেছে, কোথাও রঙিন কাগজে ফুটে উঠছে আলপনার নকশা। কেউ পরিকল্পনা করছেন আলো সাজানোর, কেউ আবার হিসাব করছেন শেষ মুহূর্তে কী কী লাগবে।
-
এই ব্যস্ততার মধ্যে নেই কোনো ক্লান্তি, বরং আছে এক ধরনের আনন্দ। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্টের চাপের বাইরে এসে শিক্ষার্থীরা এখানে একসঙ্গে কাজ করছেন এটাই যেন পূজার সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। একেকটি মণ্ডপে ফুটে উঠছে আলাদা ভাবনা, কোথাও বিদ্যার আলো, কোথাও সৃষ্টিশীলতার রূপক, আবার কোথাও শান্তি ও মানবতার বার্তা।
-
মাঠের একপাশে চলছে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর প্রতিমা তৈরির কাজ। খড়, মাটি আর রঙের সংমিশ্রণে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছেন দেবী। শিল্পীর নিখুঁত হাতে কখনো গড়ে উঠছে মুখের অবয়ব, কখনো শঙ্খ, বীণা আর পদ্মের সূক্ষ্ম কাজ।
-
প্রতিমার চোখ আঁকার মুহূর্তটি যেন সবচেয়ে আবেগঘন। বিশ্বাস করা হয়, এই চোখ আঁকার মধ্য দিয়েই প্রতিমায় প্রাণ সঞ্চার হয়। সেই সময়টাতে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চোখেও এক ধরনের নীরব শ্রদ্ধা আর বিস্ময় দেখা যায়। শহরের কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে, জগন্নাথ হলের এই কোণে যেন শিল্প আর বিশ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে যায়।