জয়-পরাজয়ে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ১.২ শতাংশ পোস্টাল ভোট

মফিজুল সাদিক
মফিজুল সাদিক মফিজুল সাদিক , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১০ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পোস্টাল ভোট জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে/জাগো নিউজ গ্রাফিক্স

প্রথমবার দেশে চালু হয়েছে পোস্টাল ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীরা দেশে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছেন। নিবন্ধন করেছেন দেশি-বিদেশি সোয়া ১৫ লাখের বেশি ভোটার। যা মোট ভোটারের ১ দশমিক ২ শতাংশ। এই ভোটই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে অনেক আসনে।

এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক প্রবাসীর ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে বলে জানায় ইসি সূত্র। সংখ্যার হিসাবে কম মনে হলেও কোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে এই ভোট। ১৮টি আসনে ১০ হাজারের বেশি করে পোস্টাল ভোট রয়েছে। কেউ সাধারণ ভোটে পিছিয়ে থেকে পোস্টাল ব্যালটে বেশি ভোট পেলে জয়ী হতে পারেন। ফলে এবার জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পোস্টাল ভোট।

ইসি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। তবে প্রবাসে মোট কত বাংলাদেশি ভোটার আছেন— এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ইসির কাছে নেই। বাকিরা দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে পৌনে ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনি কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং ৬ হাজারের কিছু বেশি কারাবন্দি।

পোস্টাল ব্যালট ভোটিংয়ে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে ব্যালট পৌঁছানো এবং তা ফেরত নিয়ে আসা। এজন্য পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনকারীরা দেশের নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে ভোট দিতে পারবেন, যাতে নির্বাচনের আগেই ব্যালট এসে পৌঁছায়।-নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ

১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করলেও তাদের সবাই ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট না পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।

১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট ১৮ আসনে

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল ৩০টি আসনে। এবার আসনভিত্তিক হিসাবে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন আছে ১৮টি। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭২, কুমিল্লা-১০ আসনে ১৩ হাজার ৯৩৮, নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৫৯২, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৭৪৫ এবং ফেনী-২ আসনে ১২ হাজার ৫৪১ জন ভোটার।

১০ হাজারের বেশি ভোটার আবেদন করেছেন কুমিল্লা-৪, ৫, ৬, ৯ ও ১১, সিলেট-১, চাঁদপুর-৫, নোয়াখালী-৪ ও ৫, ফেনী-১, কক্সবাজার-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে। এছাড়া পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন আছে ৯৭টি। বাকি আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ১ হাজার ৫৪৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনে।

আট হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো—ঢাকা-৮, মুন্সীগঞ্জ-১, চাঁদপুর-৩, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-৮, ঢাকা-১, ঢাকা-১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, রাজবাড়ী-২।

সাত হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন সংখ্যা ১১টি। এগুলো হলো— সিলেট-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, চাঁদপুর-১, চট্টগ্রাম-২, ঢাকা-১৫, কিশোরগঞ্জ-২, কুমিল্লা-২, যশোর-২, ঝিনাইদহ-২, লক্ষ্মীপুর-১ ও পার্বত্য খাগড়াছড়ি।

ছয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসন সংখ্যা ২১টি। এগুলো হলো—নরসিংদী-৫, যশোর-৩, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-১৬, মৌলভীবাজার-৩, বরিশাল-৫, শরীয়তপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-১, মৌলভীবাজার-১, কিশোরগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ঢাকা-১০, বরগুনা-১, ময়মনসিংহ-৪, সাতক্ষীরা-২, নরসিংদী-৪, সিলেট-৩, চট্টগ্রাম-১০, মাদারীপুর-৩, ঢাকা-৯।

পাঁচ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ৪৬টি আসনে। এগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ঢাকা-১৭, চট্টগ্রাম-১১, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-৭, সাতক্ষীরা-১, মুন্সীগঞ্জ-২, ফরিদপুর-৪, কুমিল্লা-৭, টাঙ্গাইল-৬, ঢাকা-২০, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৮, মৌলভীবাজার-২, সুনামগঞ্জ-৫, ঢাকা-১৯, টাঙ্গাইল-৮, ঝিনাইদহ-৩, গাজীপুর-৪, টাঙ্গাইল-৩, পার্বত্য রাঙ্গামাটি, চুয়াডাঙ্গা-১, ঢাকা-১৪, চট্টগ্রাম-১৪, টাঙ্গাইল-৫, মাদারীপুর-২, ময়মনসিংহ-১০, রাজশাহী-২, খুলনা-৩, রংপুর-৩, গাজীপুর-২, মানিকগঞ্জ-২, চুয়াডাঙ্গা-২, যশোর-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কিশোরগঞ্জ-৬, চট্টগ্রাম-৪, মাগুরা-১, বরিশাল-২, নেত্রকোনা-২, শরীয়তপুর-১, রাজবাড়ী-১, মাগুরা-২, টাঙ্গাইল-২, বরগুনা-২ ও শরীয়তপুর-৩।

৫ হাজারের নিচে কিন্তু ১ হাজার ৫০০ ভোটারের বেশি নিবন্ধন করেছেন এমন আসনের সংখ্যা ১৭৬টি। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট-৩ আসনে ১ হাজার ৫৯৫ জন।

কীভাবে ভোট দিচ্ছেন

নির্বাচন কমিশনের পাঠানো খামে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি গণভোটের, অন্যটি সংসদ নির্বাচনের। ভোটার ইসির পাঠানো খামটি পাওয়ার পর অপেক্ষা করবেন। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর অ্যাপে প্রবেশ করে নিজ আসনের প্রার্থীদের দেখা যাবে। আর ভোটারের হাতে থাকা ব্যালটে কেবল প্রতীক থাকবে, কোনো নাম থাকবে না। অ্যাপে প্রার্থীর তালিকা দেখে ব্যালটে ভোট দিয়ে এবং গণভোট দিয়ে ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে ফেলে দিলে তা সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে। এরপর সেই ভোট নির্বাচনের দিন গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কোনো ব্যালট পেপার নির্বাচনের পরে এসে পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট ভোটিংয়ে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে ব্যালট পৌঁছানো এবং তা ফেরত নিয়ে আসা। এজন্য পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনকারীরা দেশের নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে ভোট দিতে পারবেন, যাতে নির্বাচনের আগেই ব্যালট এসে পৌঁছায়।’

এমওএস/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।