শিক্ষকরা পাবেন উচ্চ গ্রেড, নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হবে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংকটগুলোর একটি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি। পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সমস্যাও প্রকট। এ দুটি সমস্যা নিরসনে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে এবং সব স্তরের শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে উচ্চ গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের অংশে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারের শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন কাঠামো অংশে বলা হয়েছে, স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষককে উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।

শিক্ষা কমিশন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষা প্রশাসকদের নেতৃত্বে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিনা-সুদে প্রথম দুই সেমিস্টার ফি সরকার দেবে।

শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে। এতে বলা হয়েছে, দরিদ্র (জাকাত পাওয়ার যোগ্য) শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। স্নাতক পর্যায়ে (বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা) এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কর্জে হাসানা (সুদ-মুক্ত ঋণ) দেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আর্থ-সামাজিক অবস্থার আলোকে সাধারণ, আলিয়া, কওমি ও ইংরেজি মাধ্যম; সমস্ত শিক্ষা-ধারার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বাংলা, বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও ইংরেজি বিষয়ে অভিন্ন পাঠ্যবস্তু প্রণয়ন করা হবে।

উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রিসার্চ ও টিচিং ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তর করা হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্তি চুক্তি সম্পাদন করা হবে যাতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা নির্ঝঞ্ঝাট উপায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারে।

এছাড়া উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী মেধাবীদের দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত ও মেধাপাচার রোধে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাঙ্গণ নিশ্চিতে সর্বস্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব প্রকার নিপীড়নমুক্ত করে সবার জন্য নিরাপদ করা হবে। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার্থী পরামর্শসেবা নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে দেশে বর্তমানে নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু রয়েছে। এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এ সুবিধা আরও উচ্চস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। দলটির স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি হলো- সব নারী শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ালেখার সুবিধা চালু করবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার সব ক্ষেত্র ও স্তরে নারীর সমান প্রবেশাধিকার ও অধিকার সংরক্ষণ করা হবে, যাতে নারী তার ইচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ ও কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন। পাশাপাশি ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত।

এএএইচ/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।