পরীমনির জামিন পাওয়ার অধিকার আছে: জাফরুল্লাহ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২১

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনির জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশে মদ আনার অনুমতি দিয়েছেন। সেই মদ পরীমনির বাসায় পাওয়া গেছে। এখন মদের মামলার জামিন দেয়া নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে। আমি বলছি, পরীমনির জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। তাকে জামিন দিতে হবে।’

রোববার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দশ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরীমনি কারাবন্দি। আপনি বলেছিলেন, সেখানে হস্তক্ষেপের অধিকার আপনার নেই। অথচ আজ আপনারা পরীমনির বিচার দ্রুত করার আদেশ দিলেন। আপনাদের এ চরিত্রহীনতা জনগণ মনে রাখবে। মনে রাখবেন একদিন আপনাদের বিচার হবে, সেই বিচার হবে রাজপথে, লুকিয়েও পালাতে পারবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন তো ক্ষমতা দখল করে রাখলেন, ক্ষমতায় থাকলেন। এখন আপনার সময় এসেছে, ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার। একটা জাতীয় সরকার করার, ড. কামাল হোসেনকে তার প্রধান করেন। আপনার দল থেকে রেহানাকে আনেন, মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েলকে আনেন। সব দল নিয়ে দুই বছরে জন্য কাজ করেন। আজকে যদি এটা না করা হয়, তাহলে দেশের ভাগ্য ভালো হবে না।’

jagonews24

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাজ হবে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে কাজ করা। তুরস্ক থেকে কাজ শুরু করেন। পাকিস্তানে যান, গিয়ে তাদের বলেন, তোমরা যে অন্যায় করেছিলে তার জন্য ক্ষমা চাও। কারণ আজকে আমাদের স্থান হওয়া দরকার চীনের পাশে, আমেরিকার পাশে। কিন্তু ভারতের পেছনে নয়। আপনি সেই দায়িত্বে যান। মানুষকে নিয়ে সেটা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমি এ সভায় এসে যেমন আনন্দিত, তেমনি দুঃখিতও বটে। কারণ আজকে আমি এখানে মন্টুকে দেখছি না, সুব্রতকে দেখছি না, অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে দেখছি না। ড. কামাল হোসেন অনেক বড় মাপের নেতা। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, আপনি সবার দোষ ভুলে যান, ভুলভ্রান্তি ভুলে যান। আপনিই আমাদের একমাত্র জীবিত নেতা। সবাইকে ডেকে, আলোচনা করুন, তা না হলে আমাদের বৃহত্তর ঐক্য হবে না।’

সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ গণফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।

গত বছর অক্টোবরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে থাকা গণফোরামে বিভক্তি দেখা দেয়। দলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হন দলটির নেতাকর্মীরা। এরপর নানা নাটকীয়তার পর সর্বশেষ আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানান তারা। তবে বিভক্তি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি গণফোরাম।

কেএইচ/এএএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]