অবৈধ বিহারিদের উচ্ছেদে বাধা নেই


প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৬

বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের জেনেভা ক্যাম্পগুলোর বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত বিহারিদের উচ্ছেদের নোটিশ স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিহারিদের উচ্ছেদে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

সেই সঙ্গে ক্যাম্পের ভেতরে বসবাসকারী জাতীয় পরিচয়পত্রধারী বিহারিদের সরকার কতৃর্ক পনর্বাসনের ব্যবস্থা করর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ৯ টি রিটের পরিপ্রিক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

রিটকারী আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, মিরপুরের পল্লবীর বিহারি ক্যাম্প, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পের বাইরে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে যারা বাস করছেন তাদের উচ্ছেদের রায় দেয়া হয়েছে। আদালতের এ রায়ের ফলে অবৈধভাবে বসবাসরত বিহারিদের উচ্ছেদে আর বাধা রইল না।

জানা যায়, মিরপুর পল্লবী থানার অর্ন্তভুক্ত ক্যাম্পের আশেপাশের সরকারি জায়গাসমূহ ১৯৯৫ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বরাদ্দ দেয় এবং প্লট বরাদ্দ পাওয়াদের পজিসন লেটার বুঝিয়ে দেয়া হয়।

২০০২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন পল্লবীর ক্যাম্পগুলো আশপাশের বিহারিদের  দোকানপাট উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। এর বিরুদ্ধে ‘উর্দু  স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহাবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান (ফাক্কু) ও শাহিদ আলী বাবলু বাদি হয়ে পল্লবী থানার অর্ন্তভুক্ত ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এছাড়া সারা দেশের বিহারি ক্যাম্পগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরো ৮টি রিট দায়ের করা হয়।

এরপর হাইকোর্ট পল্লবী থানার অর্ন্তভুক্ত ক্যাম্পবাসীদের বাড়ি ঘর দোকান-পাট তাদের ব্যবহৃত খালি জায়গা থেকে বিকল্প ব্যবস্থা না করে এবং মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উর্দুভাষীদের উচ্ছেদ না করতে অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ দেন আদালত।

আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার পরও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পবাসীদের বাড়ি ঘর দোকানপাট ভাঙচুর করে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। এর বিরুদ্ধে সাদাকাত খান (ফাক্কু) ২০০৩ সালে হাইকোর্টে  আরো একটি রিট আবেদন করলে আদালত কর্তৃপক্ষের ওপর রুল জারি করেন।

দীর্ঘদিন পর গত ২৫ জানুয়ারি রিট পিটিশনগুলো শুনানির জন্য বিচারপতি মো: মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসে। রুলের উপর প্রায় ১০ দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৮ মার্চ সোমবার দিন ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/এসকেডি/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।