রমজানে মালয়েশিয়ায় বিশেষ টাস্কফোর্স, একমাসে আটক ৬২০০
মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসী ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে ৬ হাজার ২০০ অবৈধ প্রবাসী এবং ২৩০ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান আফেন্দি রামলী জানান, এ সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোট ২৭ হাজার বিদেশি নাগরিককে তল্লাশি করা হয়েছে।
১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার ৭০০টি পৃথক অভিযানে এসব তল্লাশি ও আটক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আটকদের মধ্যে সর্বাধিক রয়েছে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও চীনের নাগরিক।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশে অবস্থান করছে বা পারমিটের শর্ত ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তারাও আইনের আওতার বাইরে নন।

বৃহস্পতিবার রাতে সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের কাজাং এর সুংগাই লং এলাকায় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে পরিচালিত অভিযানে আরও ৫১ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া ওই অভিযানে ২২৫ জন বিদেশি এবং ২৩৮ জন স্থানীয় নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫১ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
লোকমান আফেন্দি রামলি জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী, যাদের বেশিরভাগই মিয়ানমারের নাগরিক। অভিযানের সময় কয়েকজনকে রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আটকদের মধ্যে কেউ কেউ প্ল্যান্টেশন বা বাগান খাতে কাজের অনুমতিপত্র থাকলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে—বিশেষ করে খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়—কাজ করছিলেন। এটি স্পষ্টভাবে পারমিটের অপব্যবহার এবং মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার ও বিশেষ করে রমজান বাজারগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপ-মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, রমজান মাসে কোনো বিদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে স্টল পরিচালনা বা অন্যের পারমিট ব্যবহার করে ব্যবসা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স মাঠে থাকবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অবৈধ অভিবাসন, পারমিট বাণিজ্য এবং আইন অমান্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু অবৈধ কর্মী নয়, তাদের আশ্রয়দাতা ও সুবিধাভোগীরাও আইনের কঠোর জালে আটকা পড়বে। ইমিগ্রেশন সাফ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হলে আইন মেনেই চলতে হবে।
এমআরএম/জেআইএম